FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

মতি চোরা

মতি চোরা

*

চোরদের বুকের পাটা থাকার কোন নজির নেই। কিন্তু মতি চোরার বুকের পাটার সাইজ বলতে গেলে ইয়া বড়। সে চিঠি পাঠিয়ে চুরি করতে যায়। চিঠির নমুনা দেয়া যাক-

"জনাব,
পর সমাচার এই যে অদ্য রাত বারো ঘটিকায় আপনার আলয়ে পা ফেলিব বলিয়া সিদ্ধান্ত লইয়াছি। মূল্যবান দ্রব্যাদি এবং টাকা-পয়সা সিন্দুকে তালা দিয়া কিংবা মাটিতে পুতিয়া রাখিয়া কোন ফল হইবে না। রাত জাগিয়া পাহারা দিয়াও কোন ফায়দা হইবে না। সমস্ত কিছুই আমার নখদর্পনে এবং আমার গতিবিধি অশরীরির ন্যায়। তাই রাত জাগিয়া কষ্ট না করিয়া আমার কাজ আমাকে নির্বিঘ্নে করিতে দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হইবে। সালাম লইবেন।
ইতি,
অধম মতি চোরা"

এই চিঠি যে বাড়িতে গিয়েছে সে বাড়িতে চুরি হয়নি এমনটি কখনও দেখা যায়না। বাড়ির মানুষ রাত জেগে পাহারা দিয়েও কোন লাভ হয়না। ভূতের মত কোন ফাঁকে এসে মতি চোরা চুরি করে গেছে তার খবর কেউ বলতে পারে না। আশেপাশের দশ গ্রামের অবস্থা সম্পন্ন অনেক গেরস্ত বাড়িতেই মতি মিয়ার হাত পড়েছে। কেউ আটকাতে পারেনি। মতি চোরা কই থাকে কিংবা সে দেখতে কেমন তা কেউ জানে না। গ্রামের লোক অনেকেই মনে করে মতি চোরা আসলে মানুষ না। এ নিশ্চিত নিজ দেশ থেকে বিতাড়িত কোন দুষ্ট জ্বিন।

তবে অবাক করার মত ঘটনা হলো দশগ্রামের সবচেয়ে অবস্থাপন্ন যে লোক, গ্রামের সবাই যাকে ঠান্ডু মহাজন নামে চেনে, তার বাড়িতে কখনও চুরি হয়নি। ঠান্ডু মহাজনের হরেক রকমের ব্যাবসা। তার বাড়িতে কাঁচা টাকার ছড়াছড়ি। কিন্তু সেদিকে মতি চোরার নজর এখনও পড়েনি। কেন পড়েনি কে জানে। মতি চোরার মতিগতি বোঝা কার সাধ্যি?

অবশ্য ঠান্ডু মহাজন প্রায়ই বলে তার বাড়িতে চুরি করার মত হিম্মত মতি চোরার নেই। ছ'ফুট লম্বা কালো কেওক্রাডং এর মতো দেহ ঠান্ডু মহাজনের। তাকে ঘাটায় এমন হিম্মত খুব কম লোকেরই আছে।

এরই ভেতর একদিন সব ধারনা পালটে দিয়ে ঠান্ডু মহাজনের বাড়িতে মতি চোরার চিঠি এসে হাজির। তার সাহস দেখে ঠান্ডু মহাজন রাগে কিড়মিড় করে হুংকার দিয়ে বলে,"মতি হালায় আমার বালটাও নিতে পারব না। ওরে কৈলাশ...।"

কৈলাশ তার দেহরক্ষী। এক কালের কুখ্যাত ডাকাত। সে এসে বলল,"জ্বি হুজুর।"

"ওরে বাতেন..."

বাতেন তার চালের আড়ত দেখাশোনা করে। সে এসে বলল,"জ্বি, কাকা।"

"ওরে হজরত..."

হজরত তার মুদি দোকানে বসে। সে এসে বলল,"জ্বি, কাকু।"

"ওরে শামসু..."

ঠান্ডু মহাজন ইলেক্ট্রনিক্সের ডিলার। শামসু তার কর্মচারী। শামসু এসে বলল,"জ্বি, স্যার।"

তার সমস্ত কর্মচারীকে বাড়ির দেয়ালের প্রতটি কোনায় দাড় করিয়ে দিয়ে বন্দুক হাতে বাড়ি পাহারা দেয়া শুরু করল ঠান্ডু মহাজন। সন্ধ্যা গড়িয়ে গভীর রাত হল। তারপর মশা মারতে মারতে পূবের আকাশ ফর্সা হল। তবু মতি চোরার দেখা মিলল না।

সূর্য উঠতেই ঠান্ডু মহাজন হো হো করে অট্টহাসি দিয়ে বলল,"কইছিলাম না মতি হালায় আমার বালটাও নিতে পারব না।"

বাড়ির সব কিছুর হিসেব নিয়ে দেখা গেল আসলেই কোন কিছু খোয়া যায়নি। এলাকার লোকজন যখন মতির এহেন ব্যার্থতায় তাজ্জব হতে শুরু করেছে ঠিক তখনই খবর এলো ঠান্ডু মহাজনের শুধু বালটা বাদ দিয়ে কে যেন তার চালের আড়ত, মুদির দোকান, আর ইলেক্ট্রনিক্সের শো রুম একদম সাফা করে দিয়ে গেছে।

*




0 Comments 150 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2019