FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

জেতা

জেতা

*


অরুণের ডায়রির পাতা থেকে....... “এক্সকিউজ মি, আমি অরুণ। একটু কথা বলা যাবে?” “জ্বি বলুন.....” ভাবলেশহীনভাবে, অরুণের দিকে না তাকিয়েই মেয়েটি বলল। “আপনি পাখিগুলো ওভাবে ছেড়ে দিচ্ছেন কেন!?” “মানে?” এবার তির্যক দৃষ্টিতে অরুণের দিকে তাকাল মেয়েটা। “কিনে, আবার ছেড়ে দিচ্ছেন। এতক্ষণ ব্যাপারটা দেখছিলাম রাস্তার ওপার থেকে। এমনি কিউরিয়াস হয়ে জানতে এলাম। আর কিছু না।” “যেহেতু পাখিগুলো আমি কিনেছি, সেহেতু, ছেড়ে দেয়ার অধিকার---নিশ্চয়ই আমার আছে......তাই না?” “না না, ছিঃ ছিঃ, আমি আসলে সেভাবে বলতে চাইনি---প্লিজ, কিছু মনে করবেন না.....আসলে......” “ইটস্ ওকে।” অরুণের কথা শেষ না হতেই, ঝাঁঝালো গলায়, এটা বলে মেয়েটা রিকশা ডাকল, “অ্যাই মামা, যাবেন?” বছরের শেষের দিকে, শরতের এক পড়ন্ত বিকেলে, যেদিন রোদ, নরোম রোদ্দুর হয়ে আকাশ ফুঁড়ে নামছিল, এমন একদিন, ভার্সিটির ক্লাস শেষে কাঁটাবনের রাস্তা ধরে যাচ্ছিলাম। ওদিকে অবশ্য, একটা কাজও ছিল। হঠাৎ দেখি, একটা পাখির দোকানে বেশ কিছু মানুষের ছোটোখাটো জটলা। কাছে গিয়ে দেখি, একটা মেয়ে তিন খাঁচা পাখি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এক এক করে খাঁচা থেকে পাখি বের করে, সেগুলো ছেড়ে দিচ্ছে। সবাই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বিস্ময়ভরা চোখে সেই দৃশ্য দেখছে। আর আমি, অবাক হয়ে মেয়েটিকে দেখছি। মুক্ত পাখিগুলোর দিকে, ভীষণ তৃপ্তি নিয়ে তাকিয়েথাকা অসম্ভব সুন্দর, গভীর একজোড়া চোখ। খুবই সাধারণ একটি মেয়ে---ঘাড়ের নিচ পর্যন্ত চুল, পরিপাটি করে ওড়নাটা দেয়া, খুব একটা সাজগোজ নেই---গলায় একটা পুঁতির মালা, কপালে ছোট্টো কালোটিপ, হাতে একগোছা কাঁচের চুড়ি---ওইটুকুই চোখে পড়ল। দৃষ্টিতে, অবয়বে সাদামাটা একেবারেই, চোখেমুখে কেমন যেন একটা অন্যমনস্ক ভাব, সে চোখের ভাষা বারবার পড়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিলাম........সব সাধারণ এসে ভর করে ওকে একটা অন্যরকম অসাধারণ করে দিয়েছিল সেই বিকেলে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে মেয়েটিকে ভীষণ ভাল লেগে গেল, মনে এল, ওকে আমি কোথাও দেখেছি, ও আমার অপরিচিত নয়। ওকে চেনা মানুষ ভাবতে ইচ্ছে করল।---শুধুই দেখে গেলাম, শেষ পর্যন্ত, অনেক সংকোচে ঢোঁক গিলে আমার নামটা ওকে জানানো ছাড়া আর কিছুই জিজ্ঞেস করতে পারলাম না। দেখতে দেখতেই সে রিকশায় ওঠে চলে গেল। পেছন থেকে তাকিয়েছিলাম, একবার যদি রিকশার পেছন থেকে ভুলে করে হলেও সে তাকায়! ........তাকালো না, চলে গেল---রিকশা, সাথে ও।

সেদিনের পর থেকে, একটা প্রশ্ন কেবলই মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল---“কেন সে পাখিগুলো ওভাবে ছেড়ে দিল?” এমনি এমনি নয় নিশ্চয়ই। কিংবা, নিছকই মুক্ত বিহঙ্গের প্রতি ভালোবাসা থেকেও ও পাখিগুলো ওড়ায়নি। মেয়েটি আসলে কে? ওর মনে কী আছে? ও কী ভেবে পাখি উড়িয়ে আনন্দ পায়? তবে, সে যা-ই হোক, যা-ই ভাবুক, তার চাহনি বলছিল, ওই কাজটির গভীরতা অন্য জায়গায়। চোখ কেন মিথ্যে বলবে?.......এরপর থেকে, কারণে অকারণে প্রায়ই ওই রাস্তা দিয়ে যাই, এই আশায়.....যদি মেয়েটিকে আরেকবার দেখতে পাই! নামটাও জানতে পারিনি সেদিন, আমার নামটা শুনেই রিকশায় উঠে কিছু না বলে চলে গেল। আমার নামটাতে, কী এমন ছিল জানি না, তবে, মুহূর্তেই দূরে ঠেলে দেয়ার মতো কিছু একটা ঘটে গিয়েছিলো কীভাবে যেন! ইসস্‌! আর কিছু না, শুধু নামটাও যদি জানতে পারতাম সেদিন! এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে যায়। ওই রাস্তার প্রতিটি টং দোকানের সবাই আমার আপনজন হয়ে ওঠে। একটা কালো কুকুর প্রতিদিন আমাকে সঙ্গ দেয়। আমাকে দেখলেই লেজ নাড়িয়ে খুশি হয়ে ওঠে, কাছে এসে গা ঘেঁষতে থাকে আমার প্যান্টে। আমি, ওই কুকুরটার প্রতি এক ধরনের ভালোবাসা অনুভব করি। কুকুরটা আমার জন্য প্রতিদিন অপেক্ষা করে থাকে। যেদিন আমি আসি না, সেদিন ও কী করে জানি না, তবে পরদিন, আমাকে দেখলেই লাফাতে থাকে---খুশিতে, কিংবা অভিমানে। ও কী বুঝে লাফায়, কে জানে? আমি কারোরই চোখের ভাষা পড়তে পারি না এখন আর, কীভাবে যেন ভুলে গেছি। তবে, সেদিনের আগে, কিছু কিছু পারতাম।

একদিন ওই দোকানটায় গিয়ে মেয়েটির সম্পর্কে জানতে চাই। ওরা তেমন কিছু বলতে পারে না, তবে এইটুকু বলে, “আগামী বছর ওই মাসে আসলে দেখা পেতেও পারেন। খুব সম্ভবত, উনি ওই মাসেই আসবেন, দুই বছর হয়ে গেল, আসছেন।” তবে কত তারিখ, সেটা ওরা বলতে পারলেন না। পাখি ধরা যাদের কাজ, তাদের, পাখি ছাড়ার তারিখ থাকার কথাও না। অস্থির হয়ে উঠলাম। সেদিন কয় তারিখ ছিল? সময়টা তো পৌনে চারটার দিকেই ছিল বোধহয়। ভাবতে ভাবতে, হঠাৎ মাথায় এল, সেদিন কনকর্ড এম্পোরিয়ামের ‘মধ্যমা’ থেকে রাশেদকে ‘যদ্যপি আমার গুরু’ কিনে দিয়েছিলাম। বইয়ের প্রথম পেইজে, ‘কিছু মানুষ, নিজের প্রতিভার প্রতি নির্বিচারে অবিচার করতেই অসীম প্রতিভা নিয়ে জন্মান---রাজ্জাকও তেমনই একজন।......পড়ে দেখিস।’ লিখে ওকে দিই। নিচে তারিখ লিখে দিয়েছিলাম, মনে পড়ল। ওকে তখনই ফোন করে সেদিনের তারিখটা জেনে নিলাম। (to be continue)
Collected

*




0 Comments 162 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2019