FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

হুজুরের পড়া হাঁস

হুজুরের পড়া হাঁস

*

বিসিএস প্রিপারেশন নেয়া এক আপুকে পড়াতাম।😐উনি কমার্স ব্যাকগ্রাউন্ড হওয়ায় অংক খুব একটা পারতেন না।পারলেও ভুলে গিয়েছেন একদম।😑

পড়ানোর মাঝে মাঝে আন্টি নাস্তা নিয়ে আসতেন।দরজা খুলার আগে নক করে ঢুকতেন।দরজা খুলেই লজ্জামাখা মিষ্টি মুখে তাকিয়ে হাসতেন দুজনের দিকে।এ দেখে আমি কিছুটা বিব্রত হতাম প্রথম দিকে।যেনো আমরা প্রেম করতেসি আর উনি আমাদের নাস্তা দিতে আসছেন।😂

একদিন গিয়ে দেখি আপু বাসায় নেই।কোথায় যেনো বেড়াতে গিয়েছেন।ফিরতে প্রায় দু এক মাস লেগে যাবে।ততদিনে বিসিএস পরীক্ষাও শেষ হয়ে যাবে।তাই আমি আর পড়াতে পারবোনা।😕যাওয়ার আগে আমার হাতে আট হাজার টাকা দিয়ে দিলেন এ মাসের বেতন যা আমি এখনো পড়াইনি।নিতে না চাইলেও জোর করে আবদারের সহিত গছিয়ে দিলেন আমার হাতে। তাই আর নাও করতে পারলাম না।আর সাথে একটি হাঁসও দিয়ে দিলো বালতিতে।উপহার হিসেবে।আমি তো অবাক😱 এই হাঁস দিয়ে কি করবো আমি।পরে রাস্তায় ভাবতে ভাবতে এগুচ্ছি আর হাঁস দিয়ে কি করবো তা ভাবছি।হাঁস বেচারাও আমার দিকে অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে করুনা দেখাচ্ছে।😕

বাসায় এসে হাঁসকে ছেড়ে দিলাম।হাঁস দুদিন টানা ঘরে পায়খানা করে একদম গন্ধ করে ফেললো। 😟আর না পেরে আন্টিকে কল দিলাম,
-কি বাবা? তোমার আপুকে মিস করতেসো?কিন্তু ও তো বাড়িতে।ওর নাম্বার দিই তোমাকে?
-আরে রাখেন আপনার আপু।😈ইয়ে মানে আন্টি আপনি যে হাঁস দিয়েছেন আমাকে সে তো পুরা ঘরখানাকে একদম পাবলিক টয়লেট বানিয়ে দিয়েছে।😕ওকে আর আমি রাখতে পারবো না।
-আচ্ছা ঠিক আছে তুমি সময় করে হাঁসটাকে নিয়ে বাসায় এসো একদিন।
-সময় করে মানে?আমি এক্ষুনি আসতেসি।😕

তড়িঘড়ি করে শার্ট আর কোনোরকমে একটি প্যান্ট পরে চলে গেলাম আন্টির বাসায়।বাসে উঠতে গিয়ে হাঁসের জন্যও হাফ টিকেট কেনা লাগসে বাট হু কেয়ারস।😐এই হাঁসটাকে ফেরত দিয়ে আসতে পারলেই বাঁচি।😕

কলিংবেল দিতেই আন্টি ঘোমটা মুখে ফুল দিয়ে আমাকে বরণ করে নিলো।😍সোফার রুমে বসতে না বসতেই নানান প্রজাতির মিষ্টি দই নিয়ে হাজির।কিছু একটা বলতে যাবো ঠিক তখনি পাশ থেকে আঙ্কেল একটা মিষ্টি মুখে পুরে দিলেন।😂 উপায় না পেয়ে হাত দিয়েই ইশারা করতে থাকি।হাঁস বেচারাও ঘটনা বুঝতে না পেরে ক্যা ক্যা করে চিল্লাচ্ছে।😈

-আন্টি কি হয়েছে বলবেন তো?(মিষ্টি চিবুতে চিবুতে)।আপুর কি বিসিএস এ চান্স হয়ে গেছে?😕
-না বাবা।বিসিএসে তো চান্স হয়নি।কিন্তু ওর তোমাকে পছন্দ হয়ে গিয়েছে।😱(এই বলে আরেকটা মিষ্টি মুখে পুরে দিলেন)
-মানে কি?(কোনোমতে মিষ্টি গিলে)
-আমাদেরও তোমাকে অনেক পছন্দ হয়েছে কিন্তু সমস্যা হচ্ছে তুমি একটু বেশী শান্তশিষ্ট।😐আমাদের আবার মেজাজী জামাই পছন্দ।তাই তোমাকে হুজুরের কাছ থেকে পড়া-হাঁস দিয়েছিলাম।😱আর হাঁস খেলে নাকি এমনেও গা গরম হয়ে যায়।😂

এসব শুনে আমার মাথা তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল আর হাঁসটাকে আন্টির দিকে ছুড়ে মেরে সোফা থেকে উঠে গেলাম।😈আন্টি জ্বলজ্বল চোখে খুশিতে আঙ্কেলকে বলছে-ওগো দেখেছো!😂জামাইয়ের তো ভীষন মাথা গরম।মাশাল্লাহ মাশাল্লাহ।😍বিয়ে আজই ঠিক করো।কাজী ডাকো।
আঙ্কেল মোবাইল বের করে কাকে যেনো কল করছেন।

অবস্থা বেগতিক দেখে আমি আমি ভয় পেয়ে কোনোদিকে না দেখে দিলাম এক দৌড়।😂
অনেকক্ষন দৌড়ানোর পর ভাবছি যাক তাহলে এতক্ষনে বাঁচা গেলো।😐ওনারা তো এতদূর ভুলেও আসবেনা।পিছে তাকিয়ে দেখি আন্টি তার কোলে হাঁস নিয়ে আমার দিকেই তেড়ে আসছে আর তার সাথে অন্তত শখানেক মানুষ। 😱এ দেখেই আমি হাঁপাতে হাঁপাতে অজ্ঞান হয়ে গেলাম।😂

(দুদিন পরের পরীক্ষার চাপ সামলাতে আজগুবি একটা গল্প বানিয়ে ফেললাম থার্মোডায়নামিক্সের বই হাতে নিয়ে। কল্পকাহিনি কারো সাথে মিলে গেলে আমি অবশ্যই দায়ী থাকবো না কারণ আমার দৃঢ় বিশ্বাস এরকম গল্প কারো সাথেই মিলবেনা।কখনোই না)😐😐

#সংগৃহীত😂😂

*




3 Comments 202 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2020