FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

বিজ্ঞানের মোড়কে অবিজ্ঞান: আক্রান্ত যখন ডারউইনবাদ!

বিজ্ঞানের মোড়কে অবিজ্ঞান: আক্রান্ত যখন ডারউইনবাদ!

*

শ্রমজীবীভাষা” কলকাতার একটি স্বল্প পরিচিত ক্ষুদ্র বাংলা প্রগতিশীল মাসিক পত্রিকা। তার সাম্প্রতিক এক সংখ্যায় পড়ছিলাম কলকাতার প্রখ্যাত ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও সমাজ গবেষক ডাঃ স্থবির দাশগুপ্তর লেখা একটি প্রবন্ধ: “সরকারি স্বাস্থ্য-পরিষেবার বিকল্প কি করপোরেট?” ভারি চমৎকার লেখা। জনস্বাস্থ্য সমস্যার উত্থাপন, উদ্বেগের প্রকাশ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বেহাল ও অস্বাস্থ্যকর অবস্থার পরিচিতি, পুঁজিবাদ-সাম্রাজ্যবাদের নব্য-উদারনীতির ভয়াল প্রকোপে দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার সামান্য সুযোগের কর্পোরেট ছিনতাই―সব মিলিয়েই ডাঃ দাশগুপ্তর প্রবন্ধটি আমাদের চিন্তাভাবনাকে যথেষ্ট আলোড়িত করে দিয়েছিল। পড়তে পড়তে ভাবছিলাম, এত নামী একজন চিকিৎসক, নিশ্চয়ই সারা দিন কত ব্যস্ত থাকেন নিজের পেশায়; তারপরও এত চিন্তাশীল মনমোহনী লেখার সময় কীভাবে বের করে নেন? কীভাবে নিজেকে এতটা সামাজিক দায়ের মধ্যেও নিমগ্ন করতে পারেন? সমাজের সুবিধাভোগী স্তরটায় বসবাস করেও তার সম্পর্কেই এতটা বৈচারিক হয়ে উঠতে পারেন কোন ইন্দ্রজালে? অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে উঠেছিলাম পংক্তির পর পংক্তি অক্ষি-লেহনে।

চমকে গেলাম প্রবন্ধের একেবারে শেষ অংশে এসে। ঠিক দেখেছি তো? হ্যাঁ, আর একবার ভালো করে মিলিয়ে নিলাম, লেখক বলেছেন: “করপোরেট সংস্কৃতি শেখায় যে স্বাস্থ্যের অধিকার কেবল তাদেরই যারা যোগ্যতম। যোগ্যতম শব্দটা আমরা ডারউইন-এর কাছ থেকে ধার করলাম, তিনি আবার সেটা ধার করেছিলেন হার্বার্ট স্পেন্সার-এর কাছ থেকে। স্পেন্সার ছিলেন একজন সৃজনশীল জীববিদ্যাবিশারদ। যোগ্যতম শব্দটা তিনি ডারউইন-এর মতো যান্ত্রিক অর্থে ব্যবহার করেননি। করেছিলেন একটি শব্দালঙ্কার হিসেবে। আমরাও সেভাবেই ব্যবহার করে বলতে পারি, দেশের জনমানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় করপোরেট সংস্কৃতি এক কথায় অযোগ্যতম।” [দাশগুপ্ত ২০১৫]

আগাগোড়া এই সুন্দর প্রবন্ধের কোথাও ডারউইনের নাম বা বিবর্তনবাদের কোনো প্রসঙ্গ আসেনি, কথা ওঠেনি। স্পেন্সারের কথাও আসেনি। সেই সব বিষয় ওখানে ওঠার কথাও নয়। আলোচ্য বিষয়ের সাথে তাঁদের বা বিষয়গুলির কোনো সুদূরতম সংযোগও নেই। হঠাৎ করে শেষ পরিচ্ছেদে এমন একটি মন্তব্য উঠে এল কীভাবে? কেনই বা হার্বার্ট স্পেন্সার একজন সৃজনশীল জীববিদ্যাবিশারদ হয়ে উঠলেন এই প্রাজ্ঞ মানুষটির কাছে? “যোগ্যতম” শব্দটা ডারউইনের লেখার ক্ষেত্রে যান্ত্রিক আর স্পেন্সারের ব্যবহারে আলঙ্কারিক―এই পার্থক্যেরই বা চাবিকাঠি কী? শব্দটির প্রথম ব্যবহার কর্তা হিসাবে তিনি যখন স্পেন্সারের নাম জানেন, তখন শুধু শুধু ডারউইনকে আর টেনেই বা আনলেন কেন?
সমস্ত ব্যাপারটাই কেমন যেন গোলমেলে মনে হল।

এক অচেনা ডারউইন

স্মৃতির সরণি ধরে আর একটু এগোতেই (বা আসলে একটু পিছিয়ে যেতেই) মনে পড়ে গেল, অনেক দিন আগে চার্লস্‌ ডারউইনের জন্মের দ্বিশতবর্ষ এবং তাঁর “প্রজাতির উদ্ভব” গ্রন্থ প্রকাশের সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে (২০০৯) ডাঃ দাশগুপ্তের একটা বেশ বড় প্রবন্ধ পড়েছিলাম। “ডারউইন, আধুনিক জীববিদ্যা ও ক্যানসার”। বেরিয়েছিল সত্যজিত চৌধুরী ও বিজলী সরকার সম্পাদিত, উত্তর ২৪ পরগণা জেলার নৈহাটির বঙ্কিম ভবন গবেষণা কেন্দ্রের মুখপত্র “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায়। [দাশগুপ্ত ২০০৯] সেই প্রবন্ধে লেখক ডারউইনের বিবর্তনবাদকে কাটাছেঁড়া করে সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও ব্যর্থ একটি অবৈজ্ঞানিক মতবাদ হিসাবে প্রমাণ করার প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন। প্রবন্ধটির বক্তব্য তখনই আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও তাকে সেই সময় খুব একটা গুরুত্ব দিইনি। এবারের ছোট মন্তব্যটি বুঝিয়ে দিল, সেই অবহেলা করাটা বিরাট একটা ভুল হয়েছিল। বিজ্ঞান, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং বিজ্ঞানের দর্শনের তরফে আমাদের আরও সজাগ থাকা আবশ্যক। ডারউইনীয় চিন্তাধারার উপর আক্রমণ এই প্রথম নয়। কিন্তু সেটা যখন সমাজের খুব উঁচু সম্মাননীয় জায়গা থেকে দেশের আনাচে-কানাচে বিনা বাধায় জায়গা করে নিতে থাকে তার ক্ষতি করার ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। ফলে, আমাদের দিক থেকে দেখলে, এসম্পর্কে আপত্তি উত্থাপন না করাটা এক অমার্জনীয় ত্রুটি তো বটেই।

তাছাড়া, এও আমরা জানি, সমাজে এরকম ধারণা পোষণকারী মানুষের সংখ্যা খুব কম নয়। অতএব দেরিতে হলেও ডাঃ স্থবির দাশগুপ্তর সেই প্রবন্ধকে সামনে রেখে আমি এখানে আমার সীমিত সাধ্য নিয়ে ডারউইন এবং বিজ্ঞানের সপক্ষে কিছু কথা বলার চেষ্টা করব। চিকিৎসক দাশগুপ্তের প্রতি যথোচিত শ্রদ্ধা বজায় রেখেই তাঁর বিজ্ঞান ভাষ্য সম্পর্কে আমার মতামত খোলাখুলি রাখতে চাই। আশা করি সকল পাঠকবৃন্দ বিবেচনা করে দেখবেন।
প্রথমেই একটা বিস্ময়কর ঘটনার দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, সেই প্রবন্ধের শুরুতেই লেখক আক্ষেপ করেন, বিবর্তন তত্ত্বের স্রষ্টা হিসাবে আলফ্রেড ওয়ালেসের যে ডারউইনের সমান ভূমিকা ছিল তার স্বীকৃতি থেকে যেন ইতিহাস তাঁকে বঞ্চিত করেছে। [দাশগুপ্ত ২০০৯, ৩৯-৪০] কিন্তু পরে তিনি যখন সেই তত্ত্বের বিরুদ্ধেই একের পর এক ড্রোন চালনা করতে থাকেন, তখন একবারের জন্যও আর সেই ওয়ালেসের নাম উচ্চারণ করেন না। যাবতীয় আক্রমণ শুধু একজনেরই প্রাপ্য হয়। এর কারণ আমাদের কাছে কখনই পরিষ্কার হয় না। শুধু মনে হয় যেন, জীব বিবর্তনের তত্ত্ব আবিষ্কারের কৃতিত্ব দুজনেরই। কিন্তু এর মধ্যে ভুলভ্রান্তি যা কিছু, তার দায় একা ডারউইনেরই।

হ্যাঁ, ইতিহাসের দিক থেকে একথা সত্য যে এই তত্ত্ব দুজনেই স্বতন্ত্রভাবে আবিষ্কার করেছিলেন। কিন্তু শুধু তো এইটুকুই ঘটনার সব নয়। আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও তো পাশাপাশি বিদ্যমান। সেইগুলো একই সঙ্গে বলে না দিলে ডারউইন সম্পর্কে ভুল বোঝার যথেষ্ট সম্ভাবনা থাকে। মনে হবে, দুজনের কৃতিত্ব তিনি বুঝি কায়দা করে একাই নিজের নামে বাগিয়ে নিয়ে খ্যাতি ভোগ করে গেছেন! যথা: (এক) ডারউইন জীববৈচিত্র্য ও ভূ-প্রকৃতি পর্যবেক্ষণের উদ্দেশ্যে ‘বিগ্‌ল’ জাহাজে চেপে সমুদ্রভ্রমণে বেরিয়েছিলেন ১৮৩১ সালে আর ফিরে আসেন পাঁচ বছর বাদে। পৃথিবীর সমুদ্রতটভূমির প্রায় অর্ধেক তিনি ঘুরে দেখে আসেন। ওয়ালেস সমুদ্র ভ্রমণে বেরলেন একবার ১৮৪৮ সালে দক্ষিণ আমেরিকায় আর ফিরে এলেন ১৮৫২ সালে। তারপর আবার বেরলেন ১৮৫৪ সালে এবং ১৮৬২ সাল পর্যন্ত ঘুরে বেড়ালেন পূর্ব গোলার্ধের মালয় দ্বীপপুঞ্জে। (দুই) ডারউইনের নোটবইগুলি এবং কিছু ব্যক্তিগত চিঠিপত্র থেকে নিশ্চিতভাবেই জানা যায়, তিনি ১৮৪০ সালের মধ্যেই বিবর্তনের মূল তাত্ত্বিক কাঠামোটি এক রকম নির্মাণ করে ফেলেছিলেন। তাঁর বিজ্ঞানী বন্ধুরা বারবার করে তাঁকে অনুরোধ করছিলেন, সেই তত্ত্ব বই আকারে লিখে তাড়াতাড়ি প্রকাশ করার জন্য।
হ্যাঁ, ওয়ালেসও তাঁর মতো করে একই তত্ত্ব রচনা করে ফেলেন মোটামুটি ১৮৫৫ সাল নাগাদ। ডারউইনের অন্তত পনের বছর পরে। সেও তাঁর নিজের লেখাপত্র পড়েই জানা গেছে। বিজ্ঞানের ইতিহাস নিয়ে যাঁরা চর্চা করেন, তাঁদের মধ্যে এই তথ্যগুলি নিয়ে আজ আর সম্ভবত কোনো দ্বৈমত্য নেই। (তিন) ওয়ালেস যে সুদূর মালয়ভূমি থেকে তাঁর লেখা বিশাল পাণ্ডুলিপিটি ১৮৫৮ সালে বেছে বেছে অখ্যাত অজ্ঞাত ডিগ্রিহীন অ-পেশাদার নিরীহ প্রকৃতিবিদ ডারউইনের কাছেই ডাকযোগে পাঠাতে গেলেন―তারও নিশ্চয়ই কিছু বিশেষ কারণ ছিল। এবং সেগুলো ডাঃ দাশগুপ্ত জানেন বলেই মনে হয়। অতএব প্রশ্ন হচ্ছে, এই সমস্ত তথ্যাদি তিনি চেপে রাখতে চাইলেন কেন?

আসলে ডারউইনের বিজ্ঞানী বন্ধুরা তাঁর আবিষ্কারের প্রাথমিকতা অক্ষুণ্ণ রাখতে চেয়েই, ওয়ালেসের সাথে কথা বলেই, ডারউইনের বইটি, “প্রজাতির উদ্ভব”, অবিলম্বে প্রকাশের ব্যবস্থা করেন। ওয়ালেসও ডারউইনের দীর্ঘদিনের কাজের সমস্ত ইতিবৃত্ত জানবার পর সানন্দে এই প্রস্তাবে মত দেন। মানুষ হিসাবে তিনিও মহৎ চরিত্রের অধিকারী ছিলেন বলেই এটা সম্ভব হয়েছিল। আবার ডারউইন ওয়ালেসের এই উদারতার ঋণ চিরদিন মনে রেখেছেন শুধু নয়, তাঁকে সাধ্যমতো বহুভাবে সাহায্য করে গেছেন। এমনকি, ওয়ালেস যখন প্রেততত্ত্ব ও প্ল্যাঞ্চেট নিয়ে এক বিশাল কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং সমকালীন সমস্ত বিজ্ঞানীরা তাঁকে বিজ্ঞানের সঙ্গে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে কার্যত বয়কট করে বসেন, তখনও ডারউইন অন্য সমস্ত বিশিষ্ট বন্ধুদের সঙ্গে বিচ্ছেদের ঝুঁকি নিয়েও দারিদ্র্য পীড়িত ওয়ালেসের পাশে দাঁড়িয়ে থেকেছেন। সরকারের সঙ্গে কথাবার্তা চালিয়ে এই বয়ঃকনিষ্ঠ বন্ধুটির জন্য মাসিক একটা বৃত্তিদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করে দিয়েছেন।

ডাঃ দাশগুপ্ত যে ওয়ালেস প্রসঙ্গ উত্থাপন করেও এই সমস্ত তথ্য অনুচ্চারিত রেখে দিলেন, তার কারণও আমাদের কাছে স্পষ্ট নয়। এমনটা নয় তো, ওয়ালেসের প্রতি পাঠকের সহানুভূতি জাগিয়ে দিয়ে . . .?

তারপর লামার্ক। লামার্কের তত্ত্ব নিয়ে কোনো বৈজ্ঞানিক বিচার তাঁর এই রচনায় নেই। অথচ তিনি জানালেন দুটো খুব আকর্ষণীয় তথ্য, যদি অবশ্য এরকম মন্তব্যকে তথ্য বলা যায়। (এক) “তাঁর বক্তব্যের অতি-সরলীকরণ করে তাঁকে যথেষ্ট বিদ্রূপ করা হয়েছে”; এবং (দুই) “পরবর্তীকালে ডারউইন নিজেই তাঁর ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে লামার্ক থেকে অবলীলায় আহরণ করে গেছেন।” [দাশগুপ্ত ২০০৯, ৪১] যদি ধরেও নিই, কেউ কেউ লামার্কের ব্যবহার-অব্যবহার তত্ত্ব নিয়ে বিদ্রূপ করেছে, ডারউইন তো কোথাও তা করেননি, বরং লামার্কের ঋণ তাঁর “প্রজাতির উদ্ভব” গ্রন্থের ভূমিকায় শতমুখে স্বীকার করে গেছেন। আর, অতি-সরলীকরণ না করেও জীববিজ্ঞানীদের অনেকেই তো লামার্কীয় তত্ত্বকে সঠিকভাবে উপস্থাপন ব্যাখ্যা এবং বিশ্লেষণ করেছেন। সেই কথাগুলো ডাক্তারবাবুর মনে পড়ল না দেখে অবাকই হতে হয়। অথবা যদি তিনি মনেই করেন যে লামার্কীয় তত্ত্বটা ডারউইনের চেয়ে বেশি কার্যকরী সেটা মুখ ফুটে বললে এবং আমাদের বুঝিয়ে দিলেই তো আরও ভালো হত। সেটা না করে . . .।

এবং স্পেন্সার। এই ভদ্রলোক তাঁর জীবদ্দশায় বহু বিষয়ে পাণ্ডিত্যের জন্য দেশে বিদেশে বেশ খ্যাতিমান ছিলেন, অনেক বিষয়েই মোটা মোটা বইও লিখে গেছেন। অথচ মৃত্যুর পর দশ বছরের মধ্যে তাঁর নিজের দেশেই তিনি প্রায় হারিয়ে গেলেন। কেন না, তাঁর বিভিন্ন বিষয়ে সেই বৃহদায়তন রচনাবলির কোনোটার থেকেই পরবর্তীকালে জ্ঞানের রাজ্যে এগোনোর মতো কিছু মাত্র কাজের মালমশলা পাওয়া যায়নি। বরং বিশ শতকের প্রথমার্ধে যে সৌজাত্যবাদ (eugenics) এবং সামাজিক-ডারউইনবাদ (social Darwinism) সারা পৃথিবীতেই প্রচুর সমালোচনার সামনে পড়েছিল, তিনি ছিলেন সেই সব মতেরই একজন সোচ্চার আদি সমর্থক। পক্ষান্তরে, বিবর্তন বিষয়ে ডারউইনের নিজস্ব অনেক বক্তব্য বিজ্ঞানের পরবর্তী অগ্রগতির ধারায় বাতিল হয়ে গেলেও তাঁর মূল তত্ত্ব এবং সিদ্ধান্তটি কিন্তু আজ অবধি টিকে গেছে।

কোথাও কি তাঁর মনে পূর্ব ধারণার স্থির মেঘ জমে ছিল? তিনি কি ডারউইন সম্পর্কে প্রথম থেকেই পাঠককে কিঞ্চিত বিরূপ করে দিতে চেয়েছিলেন? সেই জন্যই কি কখনও ওয়ালেস, কখনও স্পেন্সার, আর কখনও লামার্ক তাঁর লেখায় ডারউইনকে ছাপিয়ে বড় হয়ে ওঠেন? হয়ত এই জন্যই তাঁকে বলতে শুনি: “এখান থেকেই ডারউইনকে দেখা দরকার; তাতে অন্তত চতুর্দিকে যা গদগদ ভাব দেখি তা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।” [দাশগুপ্ত ২০০৯, ৪১] ডারউইনের প্রতি কার বা কাদের এই গদগদভাব তা আর তিনি খুলে বলেননি। আমাদের মনে একটা খটকা থেকেই যায়।
শুধু পড়তে নয়, মনের গভীর অন্তস্থল থেকে যে বুদ্বুদটা উঠে আসতে চায়, ভাবতেও কষ্ট হয় সেই কথা।

*




0 Comments 103 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2020