FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

প্যারাডক্স

প্যারাডক্স

*

● সক্রেটিস বলেছিলেন, " আমি শুধু একটা জিনিসই জানি সেটা হচ্ছে আমি কিছুই জানি না" এর অর্থ সক্রেটিস কি আসলেই কিছু জানেন না, নাকি একটা জিনিস, বা অনেক জিনিসই জানেন?
সক্রেটিসের এই বাক্যটি একটি প্যারাডক্স।
■ প্যারাডক্স হচ্ছে সে ধরনের বাক্য বা উক্তি, যা থেকে অনন্য কোনো সিদ্ধান্তে আসা যায় না। বরং এ ধরনের সমস্যার বিবরণগুলো দুটি পরস্পরবিরোধী সমাধান তৈরি করে, যার একটি সত্য হলে অন্যটি সম্ভব না। কিছু প্যারাডক্স আছে যাদের কোনো সমাধান নেই, আবার কিছু আছে যাদের অত্যন্ত জটিল গাণিতিক এক দার্শনিক সমাধান আছে। কিন্তু সমাধান নয়, চলুন জেনে নিই এরকম কিছু বিখ্যাত প্যারাডক্সের কথা। :)
● থিসিয়াসের জাহাজ :- এটিও একটি প্রাচীন গ্রীক প্যারাডক্স। যদিও প্লেটো এবং হেরাক্লিটাসও এই সমস্যাটি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন, কিন্তু এর সবচেয়ে বিখ্যাত বর্ণনাটি পাওয়া যায় গ্রীক জীবনীকার প্লুটার্কের রচনায়। তিনি সমস্যাটিকে বর্ণনা করেন এভাবে, প্রাচীন গ্রীসের পৌরাণিক রাজা থিসিয়াস যে জাহাজে চড়ে ক্রীট থেকে ফেরত এসেছিলেন, তা এথেন্সবাসীরা সংরক্ষণ করে রেখেছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পরে জাহাজটির লগি, বৈঠা, পাটাতন প্রভৃতি নষ্ট হয়ে যেতে শুরু করলে তারা সেগুলো নতুন কাঠের গুঁড়ি দ্বারা প্রতিস্থাপন করতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে জাহাজটির কাঠামোর অধিকাংশই প্রতিস্থাপিত হয়ে যায়। প্লুটার্ক প্রশ্ন করেন, এখন জাহাজটি কি আগের জাহাজই আছে, নাকি এটি নতুন একটি জাহাজ?
এইই সমস্যাটির ভিন্ন ভিন্ন রূপও আছে। একটি বর্ণনায় বলা হয়, একটি কুড়ালের মাথা এবং হাতল দুটোই যদি পরিবর্তন করা হয়, তাহলে কি সেটি পূর্বের কুড়ালই থাকে, নাকি নতুন কুড়ালে পরিণত হয়?
● গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স :- টাইম ট্রাভেল বা সময় পরিভ্রমণ কল্পবিজ্ঞানের একটি জনপ্রিয় অংশ। কিন্তু সময় পরিভ্রমণ যদি সম্ভব হতো, তাহলে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতো। সময় পরিভ্রমণ সংক্রান্ত একাধিক প্যারাডক্স আছে, যার মধ্যে সবচেয়ে বিখ্যাত হচ্ছে গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স। এতে বলা হয়, যদি কেউ টাইম ট্রাভেল করে নিজের অতীতে ফিরে গিয়ে বাবার জন্মের আগেই দাদাকে হত্যা করে ফেলে, তাহলে তার নিজের অস্তিত্বই থাকার কথা না। গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্স দ্বারা মূলত এই ধারণাটিই বোঝানো হয় যে, অতীতে ফিরে গিয়ে যেকোনো ক্ষুদ্র পরিবর্তন ঘটালে বর্তমান পৃথিবীতে তার যে বিশাল প্রভাব পড়বে, তা পরস্পরের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না।
গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্সেরও অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন রূপ আছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে হিটলারের হত্যা করার প্যারাডক্স। অনেকেই বলে টাইম ট্রাভেল সম্ভব হলে প্রথমেই হিটলারের শিশুকালে গিয়ে তাকে হত্যা করে ফেলা উচিত, যেন সে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করতে না পারে। কিন্তু এটা সম্ভব না। কারণ হিটলারকে যদি আগেই হত্যা করে ফেলা হয়, তাহলে তার পরবর্তী প্রজন্মের মানুষের হিটলার সম্পর্কে কোনো ধারণাই থাকবে না, ফলে তাকে হত্যা করার জন্য কেউ অতীতে ফিরে যেতে চাইবে না।
●বুটস্ট্র্যাপ প্যারাডক্স :- এটিও টাইম ট্রাভেল সংক্রান্ত প্যারাডক্স, কিন্তু এটি গ্র্যান্ডফাদার প্যারাডক্সের বিপরীত। এতে অতীতে গিয়ে কোনো ঘটনার পরিবর্তন করা হয় না, বরং ভবিষ্যত থেকে কোনো তথ্য অতীতে নিয়ে আসা হয়, যা পরবর্তীতে কাজে লাগানো হয়। তখন প্রশ্ন ওঠে, তথ্যটি আসলে কোথা থেকে এসেছে।
উদাহরণস্বরূপ ধরা যায়, কেউ দোকান থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলী ক্রয় করে টাইম ট্রাভেল করে যুবক বয়সের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে দিয়ে এলো। এরপর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সেটা দেখে দেখে গীতাঞ্জলীর অনুলিপি তৈরি করলেন, যা পরবর্তী বিখ্যাত হয়ে যাওয়ার ফলে দোকানটিতে স্থান পেল। কিন্তু তাহলে গীতাঞ্জলীর আসল লেখক কে?
★ প্যারাডক্স এর আরো কিছু উদাহরণ :-
● মিথ্যাবাদি প্যারাডক্স :- কেউ যদি বলে “আমি মিথ্যা কথা বলছি“, তাহলে তার এই বাক্যটি কি সত্য না মিথ্যা? যদি তার বাক্যটি সত্য ধরে নেওয়া হয়, তার মানে সে মিথ্যা কথা কথা বলছে, অথচ ধরে নেওয়া হয়েছিল সে সত্য কথা বলছে। আবার যদি তার বাক্যটিকে মিথ্যা ধরা হয়, তাহলে তার মিথ্যা বলার দাবিটা মিথ্যা, অর্থাৎ সে সত্য কথা বলছে, কিন্তু ধরে নেওয়া হয়েছিল সে মিথ্যা কথা বলছে। উভয় ক্ষেত্রেই সমাধানগুলো পরস্পর বিরোধী।
● ইন্টারেস্টিং নাম্বার প্যারাডক্স :- ১ হচ্ছে প্রথম স্বাভাবিক পূর্ণ সংখ্যা, ২ হচ্ছে প্রথম মৌলিক সংখ্যা, ৩ হচ্ছে প্রথম বেজোড় মৌলিক সংখ্যা- এভাবে বিভিন্ন সংখ্যার কিছু না কিছু অনন্য বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। বলা হয়, প্রথম যে সংখ্যাটি পাওয়া যাবে, যার কোনো বিশেষ বৈশিষ্ট্য নেই, সেটি হবে একটি বিশেষত্বহীন বা ‘আন-ইন্টারেস্টিং’ সংখ্যা। কিন্তু এই প্যারাডক্স অনুযায়ী, কোনো বিশেষত্ব না থাকাই একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। কাজেই এই সংখ্যাটিও ‘আন-ইন্টারেস্টিং’ হতে পারে না। এভাবে দেখানো যায়, কোনো সংখ্যাই আসলে ‘আন-ইন্টারেস্টিং’ হতে পারবে না।
★এসব ছিল প্যারাডক্স নিয়ে কথা বার্তা :D । আমি নিজেও এগুলা পরে মজা পাই , আর চেষ্টা করি প্যারাডক্স বা এ এর মত করে প্রাণ করতে । যদিও আমার সব প্রশ্ন প্যারাডক্স প্রশ্নের মত হয় না .. :P । রোয়ার বাংলা সাইটের একজন ব্লগার উপরোক্ত লেখা গুলো লিখেন :) । অনলাইনে আরো সুন্দর করে ব্যাখ্যা দেওয়া আছে প্যারাডক্স এর । :)
তবে সেখানে একটা প্যারাডক্স কমেন্ট ও আমার মজার লেগেছিল.. আর ঐটা হচ্ছে..
● প্যারাডক্স আসলে কিছুই না , হুদাই একটা জিনিস নিয়া বাস্তব অবাস্তবের মাঝে গুরপাক দিয়া জ্ঞানের শোঅফ বা সুভংকরের ফাকি জাস্ট ট্রাই করলে আমরা নিজেরাই এরকম হুদায় নামক প্যারাডক্স বানাইতে পারি যেমন

তরকারির বাজার
আপনি :- এই আক্কাস!! ১ কেজি আলু দে
আক্কাস :- নেন স্যার।
আপনি :- না থাক আমাকে আলুর বদলে গাজর দে।
আক্কাস :- আইসসা স্যার আপ্নারে আলুর বদলে গাজর মাইপা ভইরা দিলাম ব্যাগে, এহন টাকা দেন স্যার। ভাংতি দিয়েন স্যার।
আপনি :- কিসের টাকা রে?
আক্কাস :- কেন স্যার গাজরের টাকা??!!
আপনি :- এই হারাম জাদা গাজর ত আমি আলুর বদলে নিছি, টাকা দিমু কেন?
আক্কাস :- তাহলে আলুর টাকা টা দেন??!!
আপনি :- আলু ত আমি নিই নাই তাহলে আলুর টাকা চাস কুন কারনে???
আক্কাস :- স্যার কি কন এইগুলা আমি ত কিছুই বুজতাসি না।

লেখক :- মোজাম্মেল হোসাইন তোহা ।
কমেন্ট করেছিলেন :- রাকিব হাসান ।
সোর্স :- রোয়ার বাংলা (roar bangla) ।

*




0 Comments 145 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2020