FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

মৃত্যুর এই অলংঘনীয় সত্যকে পবিত্র কুরআনে এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে:

মৃত্যুর এই অলংঘনীয় সত্যকে পবিত্র কুরআনে এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে:

*

মৃত্যু একটি অবধারিত সত্য। মৃত্যুকে কেউ অস্বীকার করতে পারে না। কেউ তার আগমন ঠেকাতেও পারে না এবং কোনো দিন পারবেও না।

মৃত্যুর এই অলংঘনীয় সত্যকে পবিত্র কুরআনে এভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে:

كُلُّنَفْسٍذَائِقَةُالْمَوْتِ

‘প্রতিটি প্রানি মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করবে’ (সূরা আলে ইমরান: ৫৭)।
মৃত্যু অবধারিত সত্য; কিন্তু সে বিষয়ে অধিকাংশ মানুষই উদাসীন। আবার কেউ-কেউ ভাবেন মৃত্যু এলে বুঝি পৃথিবীর ঝক্কি-ঝামেলা সব শেষ। মৃত্যুর পর মাটিতে মিশে যাব। ব্যস, আর কোনো ঝামেলা নেই। কোনো জবাবদিহিতা নেই। আর যদি থাকেও তাহলে এ নিয়ে মাথা ঘামানোর কারণ নেই। যা হবার হবে। এটা নিছক একটি অমূলক ধারণা। নিজের প্রতি অবর্ণনীয় জুলম। কেননা মৃত্যুপরবর্তী জীবনই হলো আসল জীবন। শাশ্বত জীবন। তাই মৃত্যু ও মৃত্যুপরবর্তী জীবন সম্পর্কে উদাসীন হওয়ার অর্থ হলো নিজকে হারিয়ে ফেলা। নিজকে গভীর আঁধারে নিমজ্জিত করে দেয়া। মর্মন্তুদ ও অশেষ কষ্ট-যাতনার অগ্নিগহ্বরে স্বেচ্ছায় নিজকে নিক্ষেপ করা।

মৃত্যুপরবর্তী জীবন সম্পর্কে আমাদেরকে গভীরভাবে ভাবতে হবে। প্রস্তুতি নিতে হবে উত্তম পন্থায়। তাহলে আসুন দেখি মৃত্যুপরবর্তী-জীবন সম্পর্কে কুরআন-সুন্নাহ কি বলে।

কুরআন-হাদীসে মৃত্যুর পরের বিষয়গুলো অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে সবিস্তারে তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ যখন মারা যায় এবং তাকে কবরস্থ করা হয় তখন তাকে প্রথম যে সমস্যার মুখোমুখী হতে হয় তা হলো কবরের ফেতনা।

বুখারী ও মুসলিমে আনাস রাযি. এর বর্ণনায় এসেছে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,

‘নিশ্চয় কোনো বান্দাকে যখন কবরে রাখা হয় এবং তার দোস্ত-আহবাব তাকে রেখে চলে আসে, তখন কবরস্থ ব্যক্তি তাদের জুতার আওয়াজ শুনতে পায়। তিনি বলেন, ‘(এরপর) দুজন ফেরেশ্তা এসে তাকে বসায় ও জিজ্ঞাসা করে, ‘এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কি বলতে’? ‘অতঃপর মুমিন ব্যক্তি বলবে, ‘আমি সাক্ষী দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল’।এরপর ঐ ব্যক্তিকে বলা হবে, জাহান্নামে তোমার জায়গার প্রতি তাকিয়ে দেখো। আল্লাহ তাআলা এর পরিবর্তে তোমার জন্য জান্নাতে স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,‘অতঃপর সে উভয়টাই দেখতে পাবে’।

ইমাম কাতাদা রহ. বলেন, ‘আমাদের বলা হয়েছে যে, এই মুমিন কবরবাসীর জন্য তার কবরকে সত্তর গজ প্রশস্ত করে দেয়া হবে। সবুজে ভরে দেয়া হবে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য।

আর কাফির অথবা মুনাফিককে বলা হবে, ‘এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কী বলতে’? তখন সে বলবে, ‘হায় আমি জানি না, লোকেরা যা বলত আমিও তাই বলতাম’।এরপর তাকে বলা হবে, ‘তুমি কি জাননি? তুমি কি বুঝনি’? অতঃপর তাকে লোহার হাতুড়ি দিয়ে একটি আঘাত করা হবে। তখন সে এমন এক চিৎকার দেবে, যা জিন ও ইনসান ছাড়া তার কাছের সকলেই শুনতে পাবে।

আবু আইউব আনসারী রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন:

‘একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বের হলেন এমতাবস্থায় যে সূর্য তখন ডুবে গিয়েছে। অতঃপর তিনি একটি আওয়াজ শুনতে পেলেন। তিনি বললেন, ‘এরা ইহুদী। এদেরকে কবরে আযাব দেয়া হচ্ছে’ (বুখারী ও মুসলিম)।

এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন কোনো নামাজ পড়তেন তখন কবরের আযাব থেকে পানাহ চাইতেন। তাঁর উম্মতকেও তিনি এ ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন।

এরপর কাফির ও মুনাফিককে আযাব দেয়া হবে। আর মুমিন ও বিশ্বাসীরা থাকবে নিয়ামত-সামগ্রী পরিবেষ্টিত অবস্থায়। তাই কবরের প্রশ্নের উত্তর প্রদানের জন্য আমাদের সবাইকে যথাযথভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে।

*




0 Comments 109 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2020