FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

অস্ট্রেলিয়ায় বৃষ্টি, ইশতিসকার নামাজ ও বাংলাদেশি মানসিকতা

অস্ট্রেলিয়ায় বৃষ্টি, ইশতিসকার নামাজ ও বাংলাদেশি মানসিকতা

*

#অস্ট্রেলিয়ায়_বৃষ্টি #ইশতিসকার_নামাজ ও #বাংলাদেশি_মানসিকতা

সকাল থেকে দেখলাম অনেকে শেয়ার করছে অস্ট্রেলিয়ায় নামাজ পরার কারনে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। দেখে খুশি হলাম, কিন্তু ফেসবুক নিউজের উপরে বরাবরই আমার ভরসা কম তাই আন্তর্জাতিক নিউজ পোর্টাল গুলো চেক করতে লাগলাম। ইংল্যান্ডের বিখ্যাত ডেইলি মেইল পত্রিকায় এই খবর টা পেলাম। কিন্তু তথ্যে কিছুটা বেশকম আছে দেখলাম। এখানের আসল ঘটনা হলো আমাদের যেমন হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পর্ষদ আছে তেমনি অস্ট্রেলিয়ার এডিলেডে খ্রিস্টান-মুসলমান ঐক্য পর্ষদ আছে যেটার প্রধান হলেন একজন পাদ্রি পেট্রিক ম্যাকলনার্নি। গতকাল ওনার সহকর্মী প্রফেসর আবদুল্লাহ এডিলেডের বনিথন পার্কে একটা নামাজের আয়োজন করেন ৫০ জন মুসল্লি নিয়ে সেখানে পেট্রিক সাহেব ও কিছু খ্রিস্টান নিয়ে যোগ দেন। নামাজ শেষে মুনাজাতের সময় খ্রিস্টান রাও একত্রে প্রার্থনা করে। কিন্তু সব কিছুই উদ্দেশ্য আসলে বৃষ্টি আনা। নামাজের ৭/৮ ঘন্টা পরে কিছু বৃষ্টি হয়েছে তবে এই বৃষ্টিতে টেম্পারেচার সামান্য কমলেও সব আগুন নিভবে কিনা এটা নিশ্চিত নন আবহাওয়াবিদেরা। এই বৃষ্টি প্রার্থনার কারণে হোক বা প্রাকৃতিকভাবে সেটা নিয়ে আমার কোন মাথাব্যথা নেই।
আমি এই লেখাটা লিখছি বৃষ্টির কার্যকারিতার সমালোচনার জন্যও নয়, লিখছি অস্ট্রেলিয়ান মুসলমানদের সচেতনতা বুঝানোর জন্য আর বৃষ্টির নামাজ নিয়ে ইসলামে কি আছে সেটা বলার জন্য। প্রকৃতি বাঁচানোর বৃষ্টির জন্য যে ৫০ টা লোক নামাজ পরলো এটা শুনেই আমার বুক ভরে গেছে। আমাদের দেশে এত এত মুসলমান এত এত ধর্মের ঝান্ডাধারীর ভেতরে কয়জন এই বৃষ্টির নামাজ সম্পর্কে জানে ও কয়জন জীবনে এই নামাজ পড়েছে, আর কয়জন ইমাম পড়তে বলেছে -এটা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

প্রথমে জানা দরকার যে এই বৃষ্টির জন্য প্রার্থনার নামাজকে বলে "ইশতিসকার নামাজ"। ইসলাম ধর্মের ৬ টা সহীহ হাদীস গ্রন্থ কে সিহাহ সিত্তাহ বলে। এই সহীহ হাদীস সংকলন গুলোতে মোট ২৭/২৮ টা সরাসরি হাদীস আছে এই ইশতিসকার নামাজ নিয়ে। আমি হুবহু কোন হাদীস বর্ননা করব না। আমার ভাষায় বলব।
ইশতিসকার নামাজ একেক মাজহাবের লোকেরা এক এক ভাবে পড়ে। কেউ বলে এটা সুন্নাত নামাজ কেউ বলে এটা মুস্তাহাব। যাই হোক, নামাজ যে পড়া যায় সেই ব্যপারে একেবারে নিঃসন্দেহ। এই নামাজের কোন আজান নাই। এটা যেকোন সময় পড়া যায় তবে রাসূল(সঃ) শুক্রবার জুমার পরেই বেশিরভাগ পড়েছেন বলে জানা যায়। রাসূল(সঃ) এটা ঈদগাহে গিয়ে পড়েছেন আবার মসজিদেও পড়েছেন জানা যায়। তবে খোলা ময়দান বা ঈদগাহের পক্ষে হাদীস বেশি। এই নামাজের আগে দুইটা খুতবা দিতে হয় এবং অনেকে একটা আলাদা মুনাজাত করতে হয় বলেও সমর্থন করে। এই খুতবা বা মোনাজাত কিবলামুখ হয়ে করা যাবেনা। খুতবার পরে স্বাভাবিকভাবে কিবলামুখ হয়ে দুই রাকাত নামাজ পড়তে হবে। নামাজের সময় ইমাম অনেক জোরে জোরে কিরাত পাঠ করবে। নামাজ শেষে অবশ্যই একটা তওবা সমৃদ্ধ মুনাজাত করতে হবে আর মোনাজাতের সময় যথাসম্ভব উপরে হাত তুলে করতে হয় যাতে বগল পর্যন্ত দেখা যায়। এই নামাজ টানা তিন দিন পড়তে হয় আর অনেকে এই তিন দিন রোজা পালন করে অতিরিক্ত হিসেবে। মুসল্লিরা যদি ইমামকে যেকোন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বা জুমার পরে এই ইশতিসকার নামাজের অনুরোধ করে তবে অবশ্যই এই নামাজ পড়াতে হবে। রাসূল(সঃ) কে যতবার সাহাবারা বলেছেন কোন বার তিনি না করেন নি।
এই নিয়মগুলোতে ইমাম ভেদে সামান্য পরিবর্তন হয়। কিন্তু অধিকাংশ কথাই এক।

এই যে আমাদের দেশে এত অনাবৃষ্টি হয় কোন ইমামকে বা মুসল্লিকে এই নামাজ পড়তে দেখিনাই(আমার দৃষ্টিগোচর হয়নি)। আমি নিজেও কখনো পড়িনাই। পেপারে মাঝেমধ্যে অনেকে এটা নিয়ে লেখে কিন্তু প্রয়োগ আর হয়না। বৃষ্টি তো দূরে থাক ৯০ ভাগ মসজিদে কোন বন্যা, সন্ত্রাস, ধর্ষণ, অনাচার, জঙ্গিবাদ, মাদক, ইভটিজিং, এসিড সন্ত্রাস, রোড এক্সিডেন্ট,জাদুটোনা, কুফরি, মাজারপূজা, ভূমিকম্প, নদী ভাঙ্গন, দুর্নীতি.... কিচ্ছু নিয়েই পরিত্রাণের প্রার্থনা করা হয়না।....এমন সাচ্চা মুসলমান আমরা। কাশ্মিরের জন্য জান দিতে রাজি কিন্তু নিজের দেশের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য কোন দান তো দূরের কথা, নামাজে একটা লাইনো প্রার্থনা করার প্রয়োজন বোধ করিনা।
প্রবাদে বলে-আপনি আচরি ধর্ম পরের শিখাও। আমি নিজে কম্পলিটলি ধর্ম পালন করতে পারিনা। তাই গাল ভরে উপদেশ দেয়াটা আমার সাজেনা। তবু অনেকের জন্য অজানা থাকতে পারে এই ইশতিসকার নামাজ- এটা ভেবেই কিছু লিখলাম।
ভুল হলে ক্ষমাপ্রার্থী।

লেখাঃ আসির মোসাদ্দেক সাকিব ভাই ❤

*




1 Comments 106 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2020