Post Archive
FriendsDiary.NeT |Friends|Inbox|Chat
Home»Archive»ইংরেজিতে দক্ষ হওয়ার সহজ কৌশল
ইংরেজিতে দক্ষ হওয়ার সহজ কৌশল

*

অবশ্যই একটু সময় নিয়ে পড়বেন।


ইংরেজিতে দক্ষ হওয়ার সহজ কৌশল।।।
যদি ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকে, যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় আপনি অন্যদের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবেন। আপনি যদি বিসিএস ক্যাডার হতে চান, তবে জেনে নিন প্রিলি ও লিখিত পার হওয়ার জন্য ইংরেজি অন্যতম বড় বাধা। আর ভাইভা? বর্তমানে ভাইভার প্রায় ৯০% প্রশ্ন ইংরেজিতে করা হয় (যারা ক্যাডার হয়েছেন কিংবা বিসিএসের ভাইভা ফেস করেছেন তাদের অভিজ্ঞতা)। তাই ধরে নিন, ইংরেজিতে কথা বলতে না পারলে ভাইভাতে পাশ করা মোটামুটি অসম্ভব। তাছাড়াও মাল্টি ন্যাশনাল কোনো কোম্পানিতে জবের ইচ্ছা থাকলে ইংরেজিই প্রথম কথা, বাকি সব পরে! আসুন ইংরেজিতে আমাদের দূর্বলতার কারণ এবং এ থেকে পরিত্রাণের উপায় জেনে নিই।
.
প্রথমেই সিস্টেমেটিক ভুল সম্পর্কে বলতে চাই। সেই প্রাইমারী লেভেলে যখন আমরা লেখাপড়া শুরু করি, ইংরেজিটা ঠিক তখন থেকেই আমাদের সাথে পরিচিত। আমাদের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য হচ্ছে শিক্ষাজীবনের একেবারে শুরুতেই ইংরেজিকে আমরা পাই শুধুমাত্র একটি সাবজেক্ট বা বিষয় হিসেবে, ল্যাংগুয়েজ বা ভাষা হিসেবে নয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই অধিকাংশ শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষা জানার চেয়ে ইংরেজি বিষয়ে পাশ করার চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। ভাষা এবং বিষয়ের ভিতর যে একটা বিরাট পার্থক্য আছে তা অধিকাংশের নিকট অজানাই থেকে যায়!
.
আরেকটা ভুল হচ্ছে যে, আমরা ইংরেজি বলতে বুঝি পার্টস অব স্পিচ, টেনস, ভয়েস, ন্যারাশন ইত্যাদি তথা গ্রামার অংশ। কিন্তু এটা আমরা সবাই জানি যে, গ্রামার বা ব্যকরণ হচ্ছে যেকোনো ভাষার বিশ্লেষণ। আমরা সঠিকভাবে দুইটা সেন্টেন্স বলা শেখার আগেই এর এ্যাক্টিভ-প্যাসিভ ভয়েস কিংবা ডাইরেক্ট-ইনডাইরেক্ট ন্যারাশন নিয়ে টানাটানি শুরু করি, যেটা কিনা মারাত্বক ভুল!
.
প্রত্যেকটা ভাষারই চারটি অংশ থাকে। শেখার ক্রম অনুযায়ী এগুলো হচ্ছে লিসেনিং(শোনা), স্পিকিং(বলা), রিডিং(পড়া) এবং রাইটিং(লেখা)। এই ক্রমধারা মাতৃভাষার ক্ষেত্রে কিভাবে আর ইংরেজির ক্ষেত্রে কিভাবে প্রয়োগ করা হয় একটু খেয়াল করুন-----
একটি শিশু জন্মগ্রহণ করার পর কমপক্ষে ২/৩ বছর পর্যন্ত সে কোনো কথা বলতে পারেনা। এ সময়টায় সে কিন্তু তার মা-বাবা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যের কথা শোনাতেই (লিসেনিং) সীমাবদ্ধ থাকে। এরপর সে পরিবারের সদস্যদের ডাকতে শুরু করে এবং আস্তে আস্তে অন্যান্য কথাও (স্পিকিং) শিখে ফেলে। তখনও সে কিন্তু স্কুলে যায়নি এবং জানেনা কারক কী, বিভক্তি কী কিংবা কোনটা অতীতকাল আর কোনটা বর্তমান ও ভবিষ্যত। খেয়াল করে দেখবেন ছোট বাচ্চাও ক্ষুধা লাগলে বলেনা "ভাত খেয়েছি", সে কিন্তু "ভাত খাবো"ই বলে।

যাই হোক, এরপর সে স্কুলে যায় এবং পড়তে (রিডিং) শুরু করে। আর পড়তে পারলেই সে লেখা (রাইটিং) শুরু করে। কিন্তু এই ন্যাচারাল ধারাটা (লিসেনিং>স্পিকিং>রিডিং>রাইটিং) কি আমরা ইংরেজিতে প্রয়োগ করতে পারি? স্কুলে যাওয়ার আগে আমরা জানিনা ইংরেজি কী? স্কুলে গিয়েও প্রথমে আমরা ইংরেজি পড়া(রিডিং) শুরু করি এবং এরপর লিখি(রাইটিং)। বাংলাদেশের অধিকাংশ স্টুডেন্ট এই দুই ধাপেই সীমাবদ্ধ থাকে। এরপর অল্প কয়েকজন স্পিকিং শেখার চিন্তাভাবনা করে। আর ভাষা শেখার প্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ লিসেনিংয়ে আমরা আগ্রহী নই বললেই চলে। ফলাফলে দেখা যায় যে, শিক্ষাজীবনের ১২/১৩ বছর (অনার্স পর্যন্ত) ইংরেজির সংস্পর্শে থাকা সত্বেও আমরা ফ্লুয়েন্টলি ২/৪ টা সেন্টেন্স বলতে পারিনা! তবে হ্যাঁ, আমরাও পারবো আর এটা খুব কঠিন কিছুই নয়। আসুন দেখি কিভাবে----
.
প্রথমেই শুনতে হবে। যত বেশি সম্ভব লিসেনিংয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। দশটা সেন্টেন্স মনোযোগ দিয়ে শুনলে আপনার পক্ষে দুইটা বলা কঠিন কিছু নয়। কিছু বলতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে আগে কিছু শুনতে হবে। মনে রাখবেন, বক্তা হওয়ার অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে ভালো শ্রোতা হওয়া। আর লিসেনিংটা কিন্তু ইজি লেভেল দিয়ে শুরু করতে হবে। প্রথমেই যদি আপনি মুভি থেকে ইংরেজি শিখতে চান, তবে তা হবে একটি মারাত্বক ভুল! বাচ্চাদের কার্টুন এক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। ইংরেজি শেখার ক্ষেত্রে আপনাকেও নিজেকে ছোট বাচ্চা মনে করতে হবে, এতে মন খারাপের কিছু নেই।
তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আপনাকে ইংরেজি শেখার জন্য অন্যের দুয়ারে দুয়ারে বেশি ঘুরতেও হবেনা। ইন্টারনেটে (ইউটিউব) ইংরেজি শেখার হাজার হাজার ভিডিও-অডিও লেসন আছে এবং মোটামুটি এগুলো সবই ফ্রি। ডাউনলোড করুন, অবসর সময়ে কিংবা ইচ্ছেমত সময় বের করে দেখুন। চলতে-ফিরতে কিংবা মর্নিং ওয়াক করতে করতে কানে হেডফোন লাগিয়ে শুনুন।
.
লিসেনিং এর পরে আসবে স্পিকিং! বলাটাও শুরু করুন। আপনার বন্ধুদেরকে মোটিভেট করুন। দুএকজনের সাথে ইংরেজিতে কথা বলা শুরু করুন, ধরে রাখতে পারলে আস্তে আস্তে সার্কেল বেড়ে যাবে টেরই পাবেন না। আশেপাশের লোক ঠাট্টা ও হাসাহাসি করতে পারে। করুক, ব্যাপার না! একদিন হাসবে, এক সপ্তাহ হাসবে, সর্বোচ্চ এক মাস হাসবে। এরপর আর হাসবে না। আপনি উন্নতি করতে পারলে পরবর্তীতে এরাই আফসোসে পুড়বে, কেনো যে আমিও তখন শুরু করিনি! তবে শুরু করে ছেড়ে দিলে বিপদে পড়ে যাবেন, আপনার নিন্দুকেরা তখন ঠাট্টা করার একটা প্ল্যাটফর্ম পেয়ে যাবে। তাই স্পিকিং করতেই থাকুন। নিজের সাথেও কথা বলুন, আয়নার সামনে দাড়িয়ে বলুন। ফোনে নিজের কথা রেকর্ডিং করে নিজেই শুনুন।
.
এরপর রিডিং, গুগলে যেকোনো বিষয় সার্চ করে ইংরেজিতে পড়ুন। পাঠ্য বিষয়গুলো ইংরেজিতে পড়ার চেষ্টা করুন। ইংলিশ মিডিয়ামের স্টুডেন্ট হলে আপনার জন্য কাজটা সহজ হবে। না হলেও সমস্যা নেই, একটু বেশি কষ্ট করতে হবে। মনে রাখবেন, কষ্টের মাধ্যমে অর্জিত জিনিসই উপভোগ্য হয়। দৈনিক ইংরেজি পত্রিকা পড়ুন। প্রথমদিকে শুধু শিরোনাম ও আপনার পছন্দের পাতা (খেলা, বিনোদন, রাজনীতি ইত্যাদি) পড়ুন। পরবর্তীতে যত বেশি সম্ভব পড়ার চেষ্টা করুন। উচ্চস্বরে পড়তে পারলে ফলাফলটা তাড়াতাড়ি পাবেন। আপনি যে পড়ছেন এটা যেনো আপনার আশেপাশের মানুষ বুঝতে পারে।
.
সর্বশেষ ধাপ রাইটিং। রুটিন করে লিখুন নিজের ইচ্ছেমত টপিক নিয়ে। সারাদিন যা যা করেন প্রতিদিন রাতে ইংরেজিতে তা লিখুন। ফেসবুকে কারো পোস্টে কমেন্ট করলে তা ইংরেজিতে করুন। নিজের টাইমলাইনের পোস্টগুলোও ইংরেজিতে লিখুন। এটা ঠিক যে, ফ্রেন্ডলিস্টের অধিকাংশ বন্ধুই ইংরেজি পছন্দ করেনা (লাইক, কমেন্টের সংখ্যা দেখে বুঝা যায়)। তবে আপনি ভাববেন "আমি নিজের শেখার জন্য লিখছি"। পাঁচ জনও যদি আপনার লেখা পড়ে, তবে আপনি ওই পাঁচ জনের জন্যই লিখুন।
.
আর হ্যাঁ, প্রাকটিসের কোনো বিকল্প নেই। সর্বদা চর্চার উপরই থাকতে হবে। তিন মাসে নাও হতে পারে, ছয় মাসেও নাও হতে পারে, এমনকি এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে। তবে যদি চর্চাটা ধরে রাখতে পারেন, সফল একদিন আপনি হবেনই। বিশ্বাস রাখুন নিজের উপর, আপনিও পারবেন।
Collected From Engineering Diary
0 Comments 73 Views


0/0