Post Archive
FriendsDiary.NeT |Friends|Inbox|Chat
Home»Archive»সিনিয়র আপুর সাথে প্রেম ❤ [Part-2]
সিনিয়র আপুর সাথে প্রেম ❤ [Part-2]

*



লেখকঃ A_S_A
.
পরদিন কলেজে যাওয়ার জন্য রওনা দিলাম কিন্তু আমাদের বাড়ির সামনে দেখি পুতুল আপু। আমি তাকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে ভয়ে অন্য পথে কলেজে চলে গেলাম। কলেজে আমার অনেক বন্ধুবান্ধব আছে। ফাজিল ছেলেদের বন্ধুবান্ধব তো থাকারই কথা। সবাই নিজেকে ফাজিল বলেতে চায় না। কিন্তু আমি তাদের মতো না। আমি নিজে কি তা সবাইকে বলে দেই। আমার ভালো গুণের চেয়ে খারাপ গুনটাই বেশি। যাগ্গা কলেজ ক্যাম্পাসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারছি এমন সময় পুতুল আপু আমার সামনে এসে বললো...
-স্যরি
-কেন কি করেছ তুমি?
-এতো তাড়াতাড়ি ভুলে গেলি?
.
আমি আর কিছু জানতে চাইনি। একটা মেয়ের হাতে থাপ্পড় খাওয়ার কথা বন্ধুদের সামনে বললে আমার নিজেরই তো প্যাক্টিজ লসস।
-তা এখন থেকে কি ওই গান গাইতে পারব
-তোর কি একটুও লজ্জা শরম নাই। স্যরি বলেছি বলে এই নয় যে তোকে গান গাওয়ার পারমিশন দিব।
-ওকে
কলেজ শেষে দুজন একই বাসে করে বাড়িতে চলে এলাম।
.
এইভাবে কিছুদিন গেলো। এখন আর পুতুল আপুকে দেখে গান গাই না। আগের থেকে অনেক ফ্রি এখন আমরা দুজন। এখন পুতুল আপুর সাথে আমার খুব ভালো বন্ধত্ব গড়ে উঠেছে। আপু কলেজে যাওয়ার সময় আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে যায়। আবার আসার সময় আমাকে সঙ্গে করে নিয়ে আসে। পুতুল আপু আমার প্রতি নিশ্চুই ধুর্বল হয়েছে নাহলে এতো তাড়াতাড়ি আমার সাথে মিশে গেলো কিভাবে! একদিন কলেজ থেকে আসার পথে পুতুল আপু আমাকে বললো
-আচ্ছা আমার ক্লাসমেট রাজু ছেলেটা কেমন রে?
-মানে কি? আমার থেকে তুমিই তো ওকে ভালোভাবে চিনো। কারণ ছেলেটা তুমার ক্লাসমেট
-তোকে না দেখি সারাক্ষণ রাজুদের সাথে ক্রিকেট খেলতে
-তো?
-তো আবার কি? তোর খেলার সাথীকে তুই চিনবিনা?
-তা চিনে কি করব? সত্যি করে বলতো কেইসটা কি?
-তোকে এসব জেনে কোনো লাভ নাই।
.
এই মাইয়ার মতলব কি! আমি তাকে পছন্দ করি আর সে অন্য ছেলের পিছু পিছু ঘরে। না এসব হতে দেওয়া যাবে না। আমাকে কিছু একটা করতে হবে। কিন্তু কি করব কিছুই তো আইডিয়া আসছেনা। পরদিন কলেজে যাওয়ার আগে আব্বার পকেট থেকে ৫০ টাকা চুরি করলাম। রাস্তায় দাড়িয়ে পুতুল আপু আমাকে ডাক দিলো। এক সাথে দুজন চলে গেলাম কলেজে। কলেজ ছুটির শেষে পুতুল আপুকে আসছি বলে কলেজ গেটের সামনে দাড় করিয়ে চলে গেলাম গোলাপ কিনতে। ২০ টাকা দিয়ে একটা গোলাপ কিনলাম। আসার সময় ৩০ টাকা দিয়ে দুটা চিপস কিনে নিয়ে এলাম। চিপস একটা পুতুল আপুকে দিলাম। একটা আমার নিজের জন্য রাখলাম। আর হ্যা গোলাপটা কিন্তু আমার ব্যাগের ভেতর লোকিয়ে রেখেছি। গ্রামের আঁকা বাঁকা পথ বেয়ে চলে এসেছি আমাদের গ্রামে। গাড়ি চড়া শেষে এবার আমাদের পায়ে হেঁটে আমাদের বাড়িতে যেতে হবে। হেঁটে কিছুদূর আসার পর পুতুলকে বললাম...
-দাঁড়াও একটা কথা আছে
-হেঁটে হেঁটে বলি
-না হেঁটে হেঁটে বলা যাবে না
-ঠিক আছে বল?
আমি ব্যাগ থেকে গোলাপ বাহির করে গোলাপ দিয়ে পুতুল আপুকে প্রপোজ করলাম। পুতুল আপু আমাকে বললো
-ফাইজলামি করছ?
-ভালোবাসা ফাইজলামি না
-তুই কি সত্যিই আমার সাথে প্রেম করতে চাস?
আমি মাথা নেড়ে হ্যা বোধক শব্দ জানালাম।
অতপর ঠাশশ ঠাশশ বুঝতেই তো পারছেন। থাপ্পড় দিয়ে আমাকে বললো...
-তোকে খুব ভালো মনে করেছিলাম আর তুই...
-আমি সত্যিই তোমাকে ভালোবাসি। আমি চাইনা তোমাকে হারাতে।
-তুই জানিস তুই আমার বয়সে ছোট?
-ছোট হয়েছি তো কি হয়েছে তোমাকে আমি সুখে রাখব।
-যা আমার সামনে থেকে দূর হ।
.
আমি পুতুল আপুর কথা শুনে ভয়ে চলে আসলাম। যা থাপ্পড় দিয়েছে না ১ সপ্তাহ গালে ব্যাথা থাকবে। হাতে কি শক্তি মাইরে। কোন গুদামের চাল খায় আল্লাহ ভালো জানে 😑
সামান্য প্রপোজের কারণে সব শেষ। ধ্যাত কেন যে প্রপোজ করতে গেলাম। এখন আমও গেলো ছলাও গেলো। না পুতল কে আমার প্রেমের জালে ফেলতেই হবে। আমি হার মেনে নেওয়ার পাত্র না। পরদিন আর কলেজে যাইনি। তার পরদিন গেলাম। আসার সময় এক সাথে দুজন আসলাম কিন্তু একজনের সাথে অন্যজনের কোনো কথা নাই। বাসায় এসে খাবার খেয়ে পুতুল আপুদের বাড়িতে চলে গেলাম। ওর আম্মার সাথে অনেক্ষণ গল্প করলাম। পুতুলের আম্মা খুব কিপ্টা। তাদের বাড়িতে প্রায় ১ ঘন্টা ছিলাম। আসার কিছুক্ষণ আগে আমাকে পান খাওয়ালেন। আমি সাধারণত পান খাই না কিন্তু উনার সাথে গল্প করে গলার পানি সব শুকিয়ে গেছে। পান খেয়ে গলায় রস করলাম। অতপর সালাম দিয়ে আমার বাড়িতে আমি সোজা রাস্তায় চলে এলাম...
......……চলবে…………..
0 Comments 54 Views


0/0