Post Archive
FriendsDiary.NeT |Friends|Inbox|Chat
Home»Archive»নবজাতকের জন্ডিসঃ
নবজাতকের জন্ডিসঃ

*


জন্মের পর অনেক শিশুরই জন্ডিস হয়ে থাকে। নবজাতকের রক্তে উচ্চ বিলিরুবিন মাত্রার কারণে এ জন্ডিস হয়। ৬০ শতাংশ পূর্ণ গর্ভকাল (টার্ম) নবজাতকের এবং ৮০ শতাংশ প্রি-টার্ম অর্থাৎ অকালজাত নবজাতকের মধ্যে প্রথম সপ্তাহে জন্ডিস দেখা যায়। তবে এর বেশির ভাগই নির্দোষ জন্ডিস, যাকে ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিস বলে।

ফিজিওলজিক্যাল জন্ডিসের বৈশিষ্ট্য হলো:
 ভূমিষ্ঠ হওয়ার ২৪ ঘণ্টা পর শুরু হয়।
 টার্ম নবজাতকের ৩-৫ দিন বয়সে এবং প্রি-টার্ম নবজাতকের ৫-৭ দিনের মধ্যে বেশি বাড়ে।
 ২ সপ্তাহ বয়সের মধ্যে এমনিই সেরে যায়।
 রক্তে বিলিরুবিন মাত্রা ১৫ মি গ্রাম/ডেসির নিচে থাকে।
 এটা সাময়িক জন্ডিস, কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।

ঝুঁকিসম্পন্ন জন্ডিস বা প্যাথলজিক্যাল জন্ডিস
 ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেখা দেওয়া
 বিলিরুবিনের মাত্রা ১৫ মি গ্রাম/ডেসির বেশি
 ২ সপ্তাহ বয়সের পরও যাচ্ছে না
 যদি বিলিরুবিন মাত্রা ০.৫ মি গ্রাম/ডেসি/প্রতি ঘণ্টায় বাড়তে থাকে বা ২৫ মি গ্রাম/ডেসির বেশি হয় তবে তা বিপজ্জনক বলে গ্রহণ করতে হবে।

প্রতিরোধ:
 গর্ভাবস্থায় অবশ্যই মায়ের এবিও, আরএইচ রক্ত গ্রুপ পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে
 সকল নবজাতকের জন্ডিসের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ৩-৫ দিন বয়সে বিলিরুবিন পরীক্ষা করা উচিত
 বাড়ি নিয়ে যাওয়ার পর শিশুকে হলদেটে মনে হলে বাবা-মা যেন অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন
 শিশুকে যথাযথভাবে মাতৃদুগ্ধ পান চালিয়ে যেতে হবে
 যেসব নবজাতক উচ্চমাত্রার জন্ডিসে আক্রান্ত ছিল, পরে তাদের শ্রবণশক্তি ও বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশ ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা ফলোআপ করতে হবে।

অধ্যাপক প্রণব কুমার চৌধুরী
বিভাগীয় প্রধান, শিশুরোগ বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ
#প্রথম_অালো
0 Comments 21 Views


0/0