FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

সুখের খুজে তারপড় সফলতা

সুখের খুজে তারপড় সফলতা

*

মালিহার খুব মন খারাপ আজ। এলোমেলো ভাবনা গুলো মন টা আরও বিষন্ন করে দিচ্ছে।
দ্বীনদার ছেলে ছাড়া মালিহা বিয়ে করবেনা পরিবারে জানিয়ে দিলেও তারা কিসব প্রপোজ এনে হাজির করছে মালিহার সামনে। মসৃন অবয়বের এই মানুষ গুলো কে কোন মতেই পুরুষ পুরুষ লাগেনা মালিহার। কেমন যেন মেয়েলী ভাব। মেয়েলী চেহারার কাউকে বিয়ের কল্পনাও করতে পারেনা মালিহা।
এরা নাকি খুব ভাল ছেলে!
ভাল এডুকেশনাল ব্যাকগ্রাউন্ড, ভাল জব, ভাল বেতন, ভাল বাসস্থানের মালিক এরা।
ভাল ছেলের ডেফিনেশন সবার কাছে এমন হলেও, ভাল ছেলে বলতে মালিহা বুঝে, যে ছেলে দ্বীন বুঝে এবং শারিয়্যাহ সম্মত জীবন যাপন করতে চায়।
:
দ্বীনের পথে আসছে পর থেকে মালিহা খুব নিঃসঙ্গ,কেমন যেন আর যায়না কারো সাথে!
খুব অবাক হয়ে মালিহা ভাবে মানুষের কত রকম মানসিকতা!
পুরনো ফ্রেন্ডদের ইচ্ছাকৃত এড়িয়ে যায় মালিহা! কেমন যেন আর মিলে না ওদের সাথে। দুনিয়াদারি নিয়ে ব্যস্ত ওরা। একটু বেশী মাত্রায় আধুনিক। কিন্তু দুনিয়ার মায়া ততদিনে কমে গেছে মালিহার।
সময় কাটানোর জন্য একটু ফেসবুকে আসবে তারও উপায় নেই। ফেসবুকে ঢুকলেই বেপর্দা ছবির ছড়াছড়ি। এসব আর ভাল লাগেনা মালিহার। ফেসবুকেও ইদানিং অসহ্য সময় কাটে!
একদিন হঠাৎ ই খেয়াল হল ফেসবুকের এই সার্কেলটাও মালিহার জন্য ক্ষতিকর।
সব গায়রে মাহরাম আর নোংরা,বেপর্দা ছবি আপলোডকারী ফ্রেন্ডদের আনফ্রেন্ড করে দিল মালিহা।
একটা দ্বীনি সার্কেলও হয়ে গেল তার!
কিন্তু কিসের যেন একটা শূন্যতা মালিহাকে নিঃশেষ করে দিচ্ছিল।
নিঃসঙ্গ মালিহা তার পরিবারের কারো সাথেও মন খুলে দুটা কথা বলতে পারেনা। তার দাওয়াহ কে পরিবারের সবাই ভাবে বড়দের উপদেশ দিতে আসছে। বুঝাতে পারেনা কাউকেই। হয়ত মালিহা ছোট বলেই তার কথা গ্রহন করাকে লজ্জাজনক মনে করে বড়রা। কিন্তু নিজের ভাল টা তো অন্তত বুঝা উচিৎ।
:
মালিহা স্বপ্ন দেখে কেমন হবে তার নিজের সংসার, স্বপ্ন দেখে কেমন হবে তার জীবনসঙ্গী।
একজন প্রকৃত দ্বীনদার মানুষকে সে তার সঙ্গী হিসেবে চায় যার দিকে তাকালে মুহূর্তের মিটে যাবে সব পাওয়া না-পাওয়ার হিসাব,
যার উপস্থিতি অফুরন্ত ভাল লাগার আবেশে হৃদয় কে পরিপূর্ণ করে তুলবে, যাকে ভাবলে মুহূর্তেই পাল উড়াবে সুখের কল্পতরী,
যে মানুষ টা ভালবাসবে শর্তহীনভাবে, সুখের মুহূর্ত গুলোতে সাথে হাসবে, কষ্টের দিনে ঝাপটে ধরে রাখবে দুবাহুর নিরাপদ আশ্রয়ে,
যার দিকে তাকালে কোন কারন ছাড়াই হাসি ফুটবে মুখে।
মালিহা এমন একজনকেই চায়। এমন একজন যে ভালবাসায় যতটা কোমল হবে দ্বীনের হুকুম-আহকামের ব্যাপারে তারচেয়েও কঠোর হবে। যে পূর্ণ পর্দায় রাখবে মালিহা কে, নিজেও কোন গায়রে মাহরামের দিকে ফিরে তাকাবেনা, আল্লাহর রাসূল (সঃ) হবে যার সততা,দানশীলতা,উদারতা,কঠোরতা ও লিবাসের আদর্শ।
কেবল তারই অপেক্ষাতে মালিহা নিজেকে পবিত্র রেখেছে, তার কারনেই এই একা থাকা…
মালিহা জানে একটু দেরিতে হলেও সঠিক সময়ে সঠিক মানুষটি এসে ঠিকইই নিয়ে যাবে তাকে। সে মানুষ টি দুনিয়াতেই তাকে দিবে জান্নাতের ছিটেফোটা ফ্লেভার।
:
কিন্তু মালিহার পরিবার মালিহার এমন সব চাহিদার কথা শুনে হাসাহাসি করে। বলে এমন পাত্র নাকি অর্ডার করে বানিয়ে নিতে হবে, রেডিমেইড পাবেনা।
মালিহা জানে কোথায় চাইলে সে তার মনের মত মানুষটিকেই পাবে।
আল্লাহর কাছে চাওয়ার বিকল্প কিছু নেই মালিহা জানে,
শুরু হল তার রবের দরবারে বিয়ে এবং উত্তম দ্বীনদার একজন সঙ্গীর জন্য ফরিয়াদ।
মালিহা কত কান্না করেছে, কত কাকুতি-মিনতি করেছে শুধু রব জানেন।
আবছা আলো-আঁধার ঘরে মাঝ রাতে জায়নামাজে সিজদায় গেলেই কান্না চলে আসত মালিহার।
কেমন যেন ইমোশনাল এক পরিবেশ!
রব ছাড়া কেউ তাকে দেখছেনা!
মালিহার চোখের পানিতে জায়নামায ভিজে যাচ্ছে কিন্তু দুনিয়ার কেউ তা দেখছেনা। বাসার সবাই ঘুমে বিভোর।
নিজেকে খুব একা মনে হত মালিহার।
একজন নেককার,দ্বীনদার,হৃদয়বান মানুষ কে তার করে দিতে রবের কাছে তার এই প্রার্থনা.. হৃদয়ের হাহাকার রব ছাড়া দেখার কে-ই-বা আছে!
রব ছাড়া কে আছে অন্তরের পবিত্রতা রক্ষা করার!!
:
বাসা থেকে মালিহার জন্য ছেলে দেখা হচ্ছে। মালিহা কে এমন সব প্রপোজে রাজি হতে বলে, যারা ৫ ওয়াক্ত নামায ও হয়ত ঠিকমত পড়েনা। পরিবারের সবাই এখন মালিহার উপর বিরক্ত। বলেও দিল যেমন ছেলে চায় তেমন নাকি খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়, মালিহা নিজেই যেন খুঁজে আনে অন্যথায় পরিবারের সিদ্ধান্তে মালিহা কে রাজি হতে হবে।
মালিহা হতাশ হল না। সে জানে তার প্রার্থনা বিফলে যাবেনা। আল্লাহ তার জন্য ঠিকই কোন উত্তম ফায়সালা করবেন, আর আল্লাহর সাহায্য ও খুব নিকটে।
:
দুদিন পর হঠাৎ সায়মা নামের পরিচিত এক দ্বীনি বোন ফোন দিল মালিহা কে। কথায় কথায় জিজ্ঞেস করল বিয়ে করবে কবে। পাত্র খোঁজা হচ্ছে শুনে সায়মা জানতে চাইল কেমন ছেলে চায় মালিহা। মালিহা নিজের পছন্দের কথা জানাতেই বলল আমার চেনা এমন একজন আছে, খোঁজ নিয়ে দেখতে পারি তোমার জন্য।
একদিন পরেই একটা বায়োডাটা নিয়ে হাজির হল সায়মা।
বায়োডাটা পড়ে মালিহার পছন্দ হল। কেমন দ্বীনদার মে

*




1 Comments 183 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2020