FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

হাদিস এর বানী ৩

হাদিস এর বানী ৩

*

হযরত আবু জর (রা) বর্ণনা করেন, রাসূল (স) বলেছেন, হে আবু জর ! তুমি যদি সকালে কোরআনের একটি আয়াত শিক্ষা কর তবে তা একশ রাকাত নফল নামাজের চাইতে তোমার জন্য উত্তম হবে। যদি জ্ঞানের একটি অধ্যায় শিক্ষা কর তবে সেই সময় অন্য কোন আমল না করলেও এক হাজার রাকাত নফল নামাজের চাইতে তা উত্তম হবে।
- ( ইবনে মাজা )

হযরত আবু হোরায়রা (রা) হইতে বর্ণিত আছে, রাসূল (স) বলেন, ঈমানের সত্তরটির অধিক শাখা রহিয়াছে। এইসব শাখার মধ্যে সবচেয়ে উত্তম শাখা হইতেছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা এবং সবচেয়ে নীচু শাখা হইতেছে রাস্তা হইতে কষ্টদায়ক জিনিস সরাইয়া দেওয়া। ইহা ছাড়া লজ্জা ঈমানের একটি বিশেষ শাখা।
-( মুসলিম )

হযরত আবু হোরায়রা (রা) হতে বর্ণিত আছে, রাসূল (স) বলেছেন, যেই ব্যক্তি কোনো অসুস্থ লোককে দেখবার জন্য অথবা নিজের মুসলমান ভাইয়ের সাথে দেখা করবার জন্য যায়, সেই সময় একজন ফেরেশতা ডেকে বলে, তুমি বরকতসম্পন্ন, তোমার চলা বরকতময়। আর তুমি জান্নাতে তোমার ঠিকানা নির্ধারণ করে নিয়েছো।
- ( তিরমিজি)

হযরত আনাস ( রা) বর্ণনা করেন, একজন মহিলা মসজিদ হতে আবর্জনা উঠিয়ে ফেলে দিতেন। মহিলার মৃত্যু হলো। সেই মহিলার দাফনের খবর রাসূল ( স) কে জানানো হয় নি। পরে জানার পর তিনি বললেন, তোমাদের মধ্যে কারো মৃত্যু হলে আমাকে খবর জানাবে। তারপর রাসূল ( স) সেই মহিলার জানাযার নামাজ পড়লেন এবং বললেন, তাকে আমি জান্নাতে দেখেছি। কেননা সে মসজিদের আবর্জনা উঠিয়ে বাইরে ফেলে দিত। অর্থাৎ মসজিদ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখত।
- ( তিবরানী, মাজমাউজ জাওয়ায়েদ )

এবনে ওমর (রা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন, মহান আল্লাহ সে ব্যক্তির প্রতি রহমতের নজরে দৃষ্টি করবেন না, যে অহংকারবশতঃ পরিধেয় কাপড় মাটিতে টেনে টেনে চলে।
- সহীহ্ বোখারী, হাদিস নং- ৫৩৬৭।


হযরত আবু হোরায়রা (রা) বলেন, রাসূল (স) বলেন, বদ নজর লাগা এক বাস্তব সত্য। আর তিনি গায়ে উলকি আঁকতে নিষেধ করেছেন।
- সহীহ্ বোখারী শরীফ, হাদিস নং - ৫৩২৯


ইসলাম কি শান্তির ধর্ম?
_________________

এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার আগে আপনাকে ডিফাইন করতে হবে আপনি শান্তি দ্বারা কি বুঝান। যদি বুঝান যে, ইসলাম ধর্ম গ্রহনের মাধ্যমে কেউ শান্তি লাভ করে, তাহলে অবশ্যই ইসলাম শান্তির ধর্ম।
.
কিন্তু যদি শান্তির ধর্ম দ্বারা এ কথা বুঝানো হয় যে, কাফিররা আমাদের নারী-শিশুদের হত্যা করবে, বোনদের ধর্ষণ করবে, এবং উম্মাহর শিশুদের এতিম বানাবে, কিন্তু আমরা চুপ থাকব, অথবা ফেসবুকে নিন্দা জানিয়ে বসে থাকব; তাহলে না, ইসলাম শান্তির ধর্ম নয়। তখন ইসলাম শান্তি প্রতিষ্ঠার ধর্ম এবং ঐ জালিম কাফিরদের চিরতরে ধ্বংস করে উম্মাহর নারী শিশুদের রক্ষা করা তখন মুসলিমদের দায়িত্ব।
.
.
ইসলাম আমাদেরকে দয়াশীল হতে শিখায়, কিন্তু এরই পাশাপাশি প্রয়োজনে কঠিন হবারও আদেশ দেয়। কিছু উদাহরন দিলে বুঝা যাবে-
.
১। ইহুদী গোত্র বনু কোরাইযার সাথে মুসলিমদের চুক্তি ছিল যে, কোরাইশদের সাথে যুদ্ধে তারা মুসলিমদের সহায়তা করবে, কিন্তু যুদ্ধ শুরু হলে তারা মুসলিমদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। ফলস্বরূপ, খন্দকের যুদ্ধশেষে, রাসুলুল্লাহ (সা) এর নির্দেশে বনু কোরাইযার সকল পুরুষ এবং সাবালক বালককে হত্যা করা হয়। ইতিহাসবিদদের মতে এই সংখ্যা ৪০০ থেকে ৯০০। এর ফলে আর কোন ইহুদি গোত্র মুসলিমদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার সাহস পায়নি।
.
২। মদিনায়, একবার ইহুদিরা এক মুসলিম নারীর আব্রুর উপর হাত দেয়। এর বদলা হিসেবে রাসুলুল্লাহ (সা) ঐ পুরো গোত্রটিকেই মদিনা থেকে বহিস্কার করে দেন।
.
৩। কাব বিন আশরাফ এক ইহুদী কবি ছিল। সে রাসুলুল্লাহ সা ও মুসলিম নারীদের নিয়ে অশ্লীল কবিতা লিখত, যেমনটা হাল জামানার নাস্তিকরা করে থাকে। রাসুলুল্লাহ (সা) কাব বিন আশরাফকে এর জবাব পাঠিয়েছিলেন, মুহাম্মাদ ইবনে মাসলামার (রা) মাধ্যমে। মাসলামা (রা) কাব বিন আশ্রাফকে জবাব দিয়েছিলেন, তবে তাঁর গর্দনায়, ধারালো তরবারি দ্বারা।
.
৪। একবার এক নামধারী মুসলিম, উমর রা এর কাছে গিয়ে বলে যে, সে রাসুলুল্লাহ (সা) এর বিচার নিয়ে অসন্তুষ্ট, এবং সে চায় উমর (রা) যেন ঐ ঘটনার বিচার করেন। উমর (রা) বিচার করেছিলেন, তবে তাতক্ষনিকভাবে উনার তলোয়ার দ্বারা ঐ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে।
.
৫। আবু বকর রা এর খিলাফতকাল। কিছু দুনিয়ালোভী আরব গোত্র, যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানাল। তাঁর নামায, রোযা, হজ্জ সব পালন করবে কিন্তু যাকাত দিবেনা। আবু বকর (রা) ঐ সব গোত্রকে মুরতাদ ঘোষণা করে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। পরিনামে সমগ্র আরব ইসলামের পতাকাতলে চলে আসে।
.
.
এরকম আরও হাজার হাজার উদাহরণ দেয়া যাবে। তবে মূল কথা হল, আমাদের সময় বুঝে পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে। কাফিরদের প্রতি অতি উদারতা এবং মজলুম নারী-শিশুদের পক্ষে লড়াই করা ছেড়ে
দেওয়ার কারনেই উম্মাহর আজকের এই অবস্থা।
.
রাসুলুল্লাহ (সা) বলেন-
“যখন তোমরা আই’নাহতে (রিবাহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা বা লেনদেন) লিপ্ত হয়ে যাবে, আর তোমরা গরুর লেজ ধরে থাকবে আর কৃষিকাজে তৃপ্ত হয়ে যাবে, এবং যখন তোমরা জিহাদকে ছেড়ে দিবে, তখন আল্লাহ তোমাদের লাঞ্ছিত করবেন আর তা তোমাদের উপর থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে না যতক্ষণ না তোমরা দ্বীনে ফিরে যাও।” [আবু দাঊদ ৩৪৬২, সহীহ]
.
পরিশেষে, বর্তমান দুনিয়া ফিতনা ফাসাদে ভরে গেছে, মুসলিমরা সব জায়গায় নির্যাতিত হচ্ছে, কাফিরদের হাতে কাশ্মির, মায়ান্মার, সিরিয়ার বোনদের ইজ্জত লুণ্ঠিত হচ্ছে, উম্মাহর শিশুরা অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। তাই সময় এখন, নবীর পথ অনুসরন করার, জেরুজালেমকে মুসলিমদের ফিরিয়ে দেয়ার, কুফরি শাসন ব্যাবস্থাসমূহকে সমুলে উৎপাটন করে আবার শরিয়াহ প্রতিষ্ঠা করার। তাহলেই আবার এই দুনিয়ার শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।
.
.
আল্লাহ তা'লা বলেন-
"আর তোমাদের কি হল যে, তেমারা আল্লাহর রাহে লড়াই করছ না দুর্বল সেই পুরুষ, নারী ও শিশুদের পক্ষে, যারা বলে, হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে নিষ্কৃতি দান কর; এখানকার অধিবাসীরা যে, অত্যাচারী! আর তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য পক্ষালম্বনকারী নির্ধারণ করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য সাহায্যকারী নির্ধারণ করে দাও।" (সুরা নিসাঃ৭৫)
.

লিখেছেন, Nafeez Muktadir ভাই

#ইসলাম_একটি_বাস্তববাদী_ধর্ম

*




0 Comments 142 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2020