FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

#ইলুমিনাতি (part 3)

#ইলুমিনাতি (part 3)

*

এই পূর্ববর্তী পোষ্ট এ বলেছিলাম আমরা ব্ল্যাক ম্যাজিক বা শয়তান এর সাথে কমিউনিকেট করার পদ্ধতি এবং কে কে এর সাথে জড়িত তা নিয়ে আলোচনা করবো।
পরে চিন্তা করলাম, এটা কাউকে ভুল পথে প্রভাবিত করতে পারে। কথা টা সত্যিই। তাই আমরা এর পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করবো না। প্রক্রিয়া না বললেও এর মূল বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলবো।
ব্ল্যাক মোজিক-
ব্ল্যাক ম্যাজিক হলো প্রধানত শয়তান এর পূজা করা। যেহেতু শয়তান মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে প্রতিঞাবদ্ধ, সে মানুষকে তার উপাসনা করার বিনিময়ে পৃথিবীতে যাকনো সফলতা দিতে প্রস্তুত। কিন্তু এর পুর্বশর্ত হলো ঐ ব্যাক্তিকে বিশ্বাস করতে হবে যে আল্লাহ ইবলিশ কে জান্নাত থেকে বিতাড়িত করে অবিচার করেছেন এবং এখন শয়তান এসেছে মানবজাতিকে আল্লাহ এর বন্দেগি থেকে মুক্ত করতে(নাউজুবিল্লাহ)। শয়তান মানুষকে ভুল আশ্বাস দেয় যে জান্নাত, জাহান্নাম বলতে কিছু নাই। সব মিথ্যা কথা(আল্লাহ মাফ করুক)।
ব্ল্যাক ম্যাজিক হলো শয়তান এর সাথে একটা চুক্তি যার শর্ত হলো, শয়তান মানুষকে তা দিবে যা সে চাইবে,কিন্তু এর বিনিময়ে সেই ব্যাক্তিকে তার মৃত্যুর পর নিজের রুহ বা আত্যা শয়তান কে দিতে হবে। শয়তান অনেক আত্যা আকসাথে করে আল্লাহ এর সাথে যুদ্ধ করবে। শুধু তাই নয়, জীবদ্দশায় সেই ব্যাক্তিকে শয়তান এর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে এর মাদ্ধমে শয়তান ওই ব্যাক্তির দ্বারা নিজের লক্ষ্য সাধন করে । নয়তো তাকে মেরে ফেলা হবে এবং সে আল্লাহ এবং শয়তান কারোরই কাছে ঠাই পাবে না।
-আজকে আমরা কথা বলবো ইলুমিনাতির উদ্দেশ্য নিয়ে।
কিন্তু আমরা আগে এর ইতিহাস জানবো।
ইতিহাস
১৭শ শতাব্দী তে ইউরোপে এই সংগঠন টি নিজের কাজ শুরু করে।তারা খুব স্বল্প সদস্য নিয়ে তাদের কাজ করে। তখন এই গ্রুপ এর নাম ছুল "The order of illuminati". তাদের ভাষ্যমতে, তাদের মুল কর্মকান্ড হবে জ্ঞান-বিজ্ঞান এর উন্নতির জন্য। উল্লেখ্য যে, এই গ্রুপ এর মূল হোতা ছিল রথচাইল্ড ও রকফেলর নামে দুটি পরিবার।
পরবর্তীতে ১৭৩০ সালে ইউরোপ এর সরকার রাষ্টীয় সরকার অভ্যন্তরীণ কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিজোগে তাদেরকে এই সংস্থাকে ব্যান করে।
পরবরতিতে তারা আমারিকায় আবার কার্যক্রম শুরু করে এবং এর নাম দেয় "ফ্রিমিশনারি" এবং নিজেদের ভিত্তি শক্ত করে। এবং বর্তমানে এমন বিশাল আকার ধারন করে।তারা ব্যাংক ব্যবসা এর সর্বপ্রথম প্রচলন করে, এবং এর মাদ্ধোমে প্রচুর টাকা আয় করে। অনেকেএ ধারনা অনুযায়ী বর্তমান পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ সম্পদ ওদের আয়ত্বে। ৩ টি দেশ ছাড়া পৃথিবীর সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এমনকি আপনার-আমার প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশ ও এর বাইরে না। তারা সকল দেশকে হুমকির মুখে রাখে বিভিন্ন সুবিধা আদায় করে। এবং তাতে রাজি না হলে সেই দেশের অর্থিনীতি গুড়িয়ে দেয়।তারা সব দেশের অর্থ বিষয়ক সেরা পর্যায়ে তাদের নিজেদের লোক বসায়।
-ভাবতেই অদ্ভুত লাগে পুরো পৃথিবীর ৭৫০ কোটি মানুষ কে শুধু একটি পরিবার নিয়ন্ত্রণ করে।
ইলুমিনাতির উদ্দেশ্য-
ইলুমিনাতির একমাত্র উদ্দেশ্য OWO বা ওয়ান ওয়ার্ড অর্ডার(One world world).
যার অর্থ পুরো পৃথিবীকে একক নিয়ন্ত্রন এ নিয়ে আসা। এখানে পুরো পৃথিবীকে একটি মাত্র হাতে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এখন ইলুমিনাতির হাতের সবচেয়ে কার্যকরি পুতুল হচ্ছে আমেরিকা। আমেরিকা ১০০% ইলুমিনাতির হাতে বন্দি।
আমরা সবাই ৯/১১ এর ঘটনা জানি। এটা যে একটা মিথ্যা নাটক তা একটা ওপেন সিক্রেট।

হিটলারের জীবনের বড় ব্যার্থতা ছিলো রথচাইল্ড এর ফ্যামিলি কে ধংশ না করা.!! উপযুক্ত প্রমান আর আর ইনফরমেশন এর অভাবে পারে নি, রথচাইল্ড ও তার পরিবার ইহুদি এবং তাদের মোট সমত্তি এর পরিমান কয়েক ট্রিলিয়ন ডলার।

ওরা গ্রিসের অর্থনীতি ধ্বংস করছে সামনে ইউ এর সব দেশ তাদের ক্ষমতা হারাবে। তাদের ই তৈরি ইউ, জাতিসংঘ। তারা দুনিয়াকে জাহিলিয়ার যুগে নিয়ে যাবে। দাশত্ব করবে দুনিয়া। ১৭৩৪ এর ১ মে তারা এইটা গঠন করে। অনেক ঘাটা ঘাটি করেছি এটা নিয়ে কয়কদিন মাথা নস্ট হই গেছিলো। দ্যান বুঝলাম ওদের এইসবের ফলেই শয়তানের জন্ম হবে, মেহেদী (আঃ) আসবেন ঈসা (আঃ) আসবে যুদ্ধ হবে। যা ইসলামে কোরআনে বলা হয়েছে।পৃথিবী তে দজ্জালের আগমন হবে এটা আমরা সবাই জানি। তখন কারো ঈমান থাকবে না। দজ্জাল আসার আগেই তার সহযোগী রা দিনে দিনে তৈরি হয়ে যাচ্ছে। দজ্জালের এক কথায় তারা সবাই এক হয়ে যাবে। তাই তারা আরো বহু আগে থেকেই তাদের এই কাজটি করে যাচ্ছে। যার অংশ হিসেবে এসব নিয়ন্ত্রণ /নিয়ন্ত্রক। আশা করি বুঝতে পেরেছেন।
উল্লিখিত হয়েছে যে কেয়ামত পূর্ববর্তী সময়ে মুসলিমরা ৭৩ দলে বিভক্ত হয়ে পড়বে। হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে - এই ৭৩ দলের মধ্যে একটি দল মুক্তি পাবে, যারা সঠিক ইসলামের উপর কায়েম থাকবে। বাকী ৭২টি দল জাহান্নামী হবে। বাতিল বলে গণ্য হবে। আরো বলা হয়েছে - বহুধা বিভক্ত মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে আসল মুসলিম দলটি অপরিচিত/আজনবী (Stranger) হয়ে যাবে। অনুল্লেখ্য হয়ে যাবে। তারা সংখ্যায়ও হবে খুবই কম। ইসলামের একেবারে শুরুতে যে হাতে গোনা কয়েকজনের মধ্যে এ ধর্মের সূচনা হয়েছিলো, কেয়ামত পূর্ববর্তী সময়ে অনেকটা সেরকম হয়ে যাবে। এরকম অবস্থায় কিছু লোক ইমাম মাহদী (আঃ) এর আগমনের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন। এদিকে ইমাম মাহদী আঃ তখন মদীনাতেই অবস্থান করবেন এবং ইমামতের (নেতৃত্বের) দায়িত্ব পালনে নিজেকে অসমর্থ মনে করে মক্কা মুকার্‌রমায় চলে যাবেন। মক্কার কিছু লোক তাঁকে চিনতে পারবে। তারা তার কাছে এসে তাকে ঘরের বাইরে নিয়ে আসবেন এবং তার হাতে হাত রেখে জোরপূর্বক (insist) বাইয়াত হতে থাকবেন (নেতৃত্বে বরণ করে নেবেন), যদিও মন থেকে তিনি তা’ চাইবেন না। এই বাইয়াত (শপথ) মকামে ইব্রাহীম ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে অনুষ্ঠিত হবে। (হজরত ইমামকে তাওয়ায় করাতে করাতে এই বাইয়াত গ্রহণ করানো হবে)। যখন ইমাম মাহদী আঃ এর খিলাফতের খবর ছড়িয়ে পড়বে, তখন সিরিয়া হতে এক সৈন্যবাহিনী তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করবে। এই বাহিনী ইমাম মাহদী আঃ এর সঙ্গে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে চলন্ত অবস্থায় মক্কা ও মদীনার মধ্যবর্তী “বীদা” নামক স্থানে ভূমিধ্বসে আক্রান্ত হয়ে মাটিতে জীবন্ত সমাধিস্থ হয়ে যাবে। এ ঘটনার খবর শুনে শাম (সিরিয়া) ও ইরাকের পরহেজগার লোকেরা তার খিদমতে উপস্থিত হবেন। তাদের মোকাবিলা করার জন্য কুরাইশী গোত্রের বনী কলবের লোকেরা এক বাহিনী প্রেরণ করবে। এদের সাথে মাহাদী আঃ এর বাহিনী যুদ্ধ করবে এবং এ যুদ্ধে মাহাদী বাহিনী জয়লাভ করবে।

এ বর্ণনা মিশকাত শরীফ/আবু দাউদের বর্ণনা থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর হজরত ঈসা আঃ এর আগমনের আগ পর্যন্ত ইমাম মাহাদী আঃ মুসলিমদের নেতৃত্ব দিয়ে যেতে থাকবেন। মুসলিম উম্মাহ্‌কে সংগঠিত করে যাবেন। তিনি আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞান, প্রজ্ঞা, বুদ্ধিমত্তা এবং সামর্থ বলে বলীয়ান হয়ে ৭ বছর সফলতার সাথে শাসনকার্য পরিচালনা করবেন। বায়তুল মুকাদ্দাসে অবস্থান করে তিনি সার্বিকভাবে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনবেন এবং পৃথিবীতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত করবেন। সমগ্র মুসলিমদের কেন্দ্র ও মনোযোগ তখন জেরুজালেম কেন্দ্রিক খেলাফত। এ সময় রোমানরা বিকৃত ক্রসভিত্তিক বিশ্বাস খৃষ্টান ধর্মের উপর বিজয় লাভ করবেন এবং মুসলিম সাথে মৈত্রীতে আবদ্ধ হয়ে একীভূত হয়ে যাবেন। এক পর্যায়ে ঐ মৈত্রীতে ফাটল ধরবে। ওদিকে অনেক ইউরোপিয়ান এ সময় ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হবে ও অন্য মুসলিমদের সাথে ভ্রাতৃত্ববন্ধনে আবদ্ধ হবে। ওদিকে মিত্র থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়া রোমানরা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হবে। এ যুদ্ধে মুসলিমরা সিরিয়ান শহর এলেপ্পোতে প্রায় লক্ষাধিক রোমান সৈন্যের সাথে বিজয়ী হবে। মুসলিমদের একটি গ্রুপ ভারত আক্রমন করবে। অপর গ্রুপটি রোম জয় করবে। এ সময় তুরস্কে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে মুসলিমরা এগিয়ে আসবে। ইস্তাম্বুলকে (তুরস্ক) দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করে শান্তি প্রতিষ্ঠিত করার পর মুসলিমরা দাজ্জালের ফেতনা / নৈরাজ্য থেকে রক্ষা করার জন্য সিরিয়া অভিমূখে রওয়ানা হবে। এ সময় সারা পৃথিবী জুড়ে দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে। তিন বছর বৃষ্টির দেখা মিলবে না। এ রকম অবস্থায় পূর্বদিক থেকে দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ হবে। দাজ্জালের ডান চোখ কানা, অন্য চোখটি সবুজ। সে পৃথিবীতে ইচ্ছেমত দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি সৃষ্টি করতে সমর্থ হবে। যে সমস্ত দেশ তার নির্দেশ অমান্য করবে, তার মতবাদ, ইচ্ছে বাস্তবায়ন না-করবে, তাকে খোদা না-মানবে, সে ঐ সমস্ত দেশে দুর্ভিক্ষ ও অনাবৃষ্টি সৃষ্টি করবে। সে একাদিক্রমে ৪০ দিন পর্যন্ত অসহনীয় দুর্দশা ও ধ্বংসযজ্ঞ ডেকে আনবে। হাদীছে বলা হয়েছে - ঐ ৪০ দিনের প্রথম দিন হবে ১ বছরের সমান, দ্বিতীয় দিন হবে ১ মাসের সমান, তৃতীয় দিন হবে ১ সপ্তাহের সমান এবং তারপরের দিনগুলি স্বাভাবিক দিনের মতোই দীর্ঘ হবে। ধোকাবাজ দাজ্জাল প্রথমে নিজেকে আল্লাহ প্রেরিত হিসেবে ঘোষণা করবে। তারপর সে নিজেকে “সৃষ্টিকর্তা” দাবী করবে। সে মৃতকে জীবিত করতে পারবে। তবে তা’ হবে কেবল একবারের জন্য। অর্থাৎ একবার মৃতকে জীবিত করার পর দ্বিতীয়বার আর করতে সক্ষম হবে না। মানুষকে দুই টুকরো করে তাৎক্ষণিক জোরা লাগাতে সক্ষম হবে। ভেল্কিবাজি, ধোকাবাজি এবং মন্ত্রমুগ্ধ করে সে ঈমানদারদের বেঈমানে পরিণত করবে। নিজেকে “সৃষ্টিকর্তা” মানার জন্য ঐ ক্ষমতা সে মানুষের উপর প্রয়োগ করবে। স্যাটেলাইট যোগাযোগের মত সে পৃথিবীর সকলের সাথে যোগাযোগ করতে সমর্থ হবে। বিমানের মত বাতাসের গতিতে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলাচল করতে সমর্থ হবে। সে “বৃষ্টি” নিয়ন্ত্রণ করতে সমর্থ হবে। তার সাথে বিপুল পরিমাণ খাদ্য ও পানীয় থাকবে। এবং সমগ্র পৃথিবীতে সীমাহীন নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা এবং মানুষের জন্য নিদারুন কষ্ট ও যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির মধ্যে দাজ্জাল নামক এই সাক্ষাৎ শয়তানকে যে বা যারা “সৃষ্টিকর্তা” মানবে, তাদেরকেই কেবল সে ঐ খাদ্য ও পানীয় ভোগ করার সুযোগ দেবে।

এই দাজ্জালের ব্যাপারে হজরত নূহ (আঃ)-ও তাঁর সম্প্রদায়কে সতর্ক করে গেছেন। মোটকথা, দাজ্জাল পৃথিবীতেই জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থা তৈরী করতে সক্ষম হবে। কিন্তু ঐ জান্নাত ও জাহান্নাম মূলত ইল্যুশান বা বিভ্রম। তার সৃষ্ট ঐ জান্নাত আসলেই ‘জাহান্নাম’ এবং জাহান্নাম প্রকৃতপক্ষে ‘জান্নাত’। অর্থাৎ যে লোক দাজ্জালের জান্নাতকে বেহেশত্ মনে করে তাতে প্রবেশ করবে, তা’ আসলে জাহান্নাম। তার জাহান্নাম হবে আসলে জান্নাত। হাদীছে এসেছে, এ সময় যারা পবিত্র কোরানের সুরা কাহাফ এর প্রথমাংশ পাঠ করবে, তারা দাজ্জালের ফেৎনা থেকে আত্মরক্ষা করতে সমর্থ হবে। তার দু’চোখের মধ্যখানে ‘কাফির’ ( ক্বাফ, ফা, রা ) লেখা থাকবে। হাদীছে রয়েছে, ইস্পাহানের (ইরান এর একটি শহর) প্রায় ৭০,০০০ (সত্তর হাজার) ইহুদি ও ইরানী তার সেনাদলে যোগদানকরবে। এ সময় প্রচন্ড এক ভূকম্পন সৃষ্টি হবে। ঐ ভূকম্পনে সমস্ত হিপোক্রিট/ভন্ড মুসলিম ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে মক্কা-মদীনা থেকে বেরিয়ে আসবে। দাজ্জাল ও তার বাহিনী সেখানে প্রবেশ করতে চাইলে আল্লাহর ফেরেশতারা তাতে বাধা দেবেন। ফলে দাজ্জাল মক্কা-মদীনায় প্রবেশ করতে পারবে না। খুব ভোরে ফজরের নামাজের সময়ে দাজ্জাল ও তার বাহিনী সিরিয়ার দামাস্কাসের উমাইয়াড মসজিদ ঘেরাও করে অবরুদ্ধ করে ফেলবে। এ সময় ফজরের আযান শুনা যাবে। ইমাম মাহাদী আঃ ঐ জামাতে ইমামের দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত হবেন। কিন্তু সবাইকে হতবাক করে দিয়ে এ সময় মসজিদের সাদা মিনারের কাছে হজরত ঈসা আঃ আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। সিরিয়ার উমাইয়াদ মসজিদ
উল্লেখ্য হজরত ঈসা আঃ আবির্ভাব কেয়ামত-পূর্ববর্তী অন্যতম বড় নিদর্শন। ইমাম মাহাদী আঃ ঈসা আঃ-কে ফজরের নামাজের ইমামতির জন্য অনুরোধ করলে তিনি মুসলিম নেতৃত্ব নিজের কাঁধে নেয়ার আগে শেষকর্তব্য হিসেবে ইমাম মাহাদী আঃ-কেই ইমামতি করে যেতে বললেন। জাফরানী রং এর আলখাল্লা পরিহিত এবং চুল থেকে ফোটা ফোটা ঘাম ঝরতে থাকা অবস্থায় হজরত ঈসা আঃ দু’জন ফেরেশতার পাখায় ভর করে আকাশ থেকে অবতরণ করবেন। তিনি লড্‌স্ গেটের কাছে (বর্তমান রামাল্লার নিকটবর্তী এয়ারপোর্টের সন্নিকটে) দাজ্জালকে হত্যা করবেন। বর্ণনায় রয়েছে, এ সময় দাজ্জাল পানি সিক্ত লবনের মতো বিগলিত হয়ে মৃত্যু বরণ করবে। আশেপাশের সমস্ত কাফির বা অবিশ্বাসীরা ধ্বংস হবে। বর্ণনায় রয়েছে, এ সময় কিছু কিছু কাফির আত্মগোপন করতে চাইলেও তা’ তারা করতে পারবে না। পাহাড় বা গাছ যার আড়ালেই তারা আত্মগোপন করতে চাইবে, তারা তা’ প্রকাশ করে দেবে। কোন কিছুই ঈসা আঃ এর শত্রুদের আত্মগোপনের সুঝোগ দেবে না। সবাই ধ্বংস হয়ে যাবে। ঈসা আঃ দাজ্জালের অনুসারীদের হত্যা করে হজরত মোহাম্মদ সাঃ এর সুন্নাহ্ ও কোরানের শাসন চালু করবেন। খৃষ্টানদের ক্রস ধ্বংস করবেন, শুকর ধ্বংস করবেন, জিযিয়া কর তুলে দেবেন। সর্বত্র শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবেন। সমগ্র পৃথিবীর মানুষকে ইসলামের আলোয় আলোকিক করে ঐক্যবদ্ধ করবেন। এদিকে এসব ঘটনার পরপরই খবর চাউর হয়ে যাবে যে ইয়াজুজ্ মা’জুজ নামে ভয়ানক হিংস্র এক মানব গোষ্টি যুলকারনাইন দেয়াল দ্বারা অন্তরীণ থাকা থেকে মুক্ত হয়ে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে এবং ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে। এরা সংখ্যায় এত বেশী হবে যে খুব দ্রুত তারা ‘সী অব্ গ্যালিলি”র পানি খেয়ে শেষ করে ফেলবে।
ইয়াজুজ-মাজুজ এ পৃথিবীতে নজিরবিহীন নারকীয় হত্যা, ধ্বংসযজ্ঞ ও অনবরত দাঙ্গা-ফাসাদ করতে থাকবে। এদিকে হজরত ঈসা আঃ তার সাথীদের নিয়ে তূর পাহাড়ে অবরুদ্ধ অবস্থায় দিন অতিবাহিত করতে থাকবেন। পরিস্থিতি এমন সংকটজনক অবস্থায় পৌঁছুবে যে, সামান্য বস্তুর দাম একশত দীনারের চেয়ে বেশী মনে হবে। এই দুঃসহ পরিস্থিতিতে হজরত ঈসা আঃ ও তার সাথীরা ইয়াজুজ মাজুজের বিনাশের জন্য আল্লাহর কাছে কাতর প্রার্থনা জানাবেন। আল্লাহতায়ালার দরবারে তার প্রার্থনা মঞ্জুর হবে। আল্লাহতায়ালা ইয়াজুজ মাজুজের উপর ভেড়া ও উটের নাক দিয়ে বেরুনো ‘নাগফা’ নামক ব্যাধি তাদের উপর ছড়িয়ে দেবেন। ফলে তাদের ঘাড়ে বড় বড় ফোস্কা বেরুবে। এতেই তারা একসাথে সবংশে নির্মূল হয়ে যাবে। তাদের অবস্থা দেখলে মনে হবে যে, বাঘ এসে সবাইকে চিরে-ফেরে ফেলে দিয়ে গেছে। তারা ধ্বংস হয়ে যাবার পর আল্লাহর নবী হজরত ঈসা আঃ ও তার সঙ্গী সাথীরা তূর পাহাড় হতে বেরিয়ে আসবেন। তখন এ পৃথিবীর মাটিতে এক বিঘত জায়গাও থাকবে না। যে স্থানটি ইয়াজুজ মাজুজের চর্বি ও দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত থাকবে। সেজন্য আল্লাহর নবী হযরত ঈসা আঃ তার সঙ্গীদের নিয়ে আল্লাহর দরবারে কাতর প্রার্থনা জানাবেন। ‘হে আল্লাহ! তাদের চর্বি ও দুর্গন্ধের কবল থেকে আমাদের রক্ষা কর’। সেজন্য আল্লাহ উটের ঘাড়ের মতো লম্বা ঘাড় বিশিষ্ট বড় বড় আকারের শকুন পাঠিয়ে দেবেন। তারা ইয়াজুজ মাজুজের মৃতদেহগুলি উঠিয়ে নিরাপদ দূরত্বে নিয়ে ফেলে দিয়ে আসবে। তারপর আল্লাহ বৃষ্টি পাঠাবেন। সেই বৃষ্টি থেকে ধরনীর কিছুই বাদ পড়বে না। তা’ সমগ্র পৃথিবী পৃষ্ঠকে ধুয়ে আয়নার মতো পরিষ্কার করে দেবে। এরপর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তার সাথীদের নিয়ে এ ধরনীতলে সুখে শান্তিতে বসবাস করবেন। আল্লাহতায়ালা তাদের উপর বড়ই কৃপা ও অনুগ্রহ বর্ষণ করবেন। সেই মতো আল্লাহর পক্ষ থেকে মাটিকে আদেশ দেয়া হবে যে মাটি থেকে ফল ফলাদি বের করে দাও। ফলে জমিতে খুব ভাল ফল (ফসল) উৎপাদন হবে। পরিণামে একটি দলের জন্য একটি আনারই যথেষ্ট হবে। কেননা সে আনার যথেষ্ট বড় হবে এবং তার ছাল দিয়ে তারা ছাতা বানাবে। এবং দুধেও বড়ই অনুগ্রহ বর্ষণ করা হবে। এমন কি, একটি উটের দুধ বড় একটি দলের জন্য পেট ভরার জন্য যথেষ্ট হবে। একটি গরুর দুধ বড় একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে। একটি ভেড়ার দুধ ছোট একটি গোত্রের জন্য যথেষ্ট হবে।

হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম সাত বছর পৃথিবীতে অবস্থান করবেন। বিয়ে করবেন। সন্তানাদি হবে। এবং রসুলুল্লাহ সাঃ এর পাশে তার দাফন হবে। (বুখারী ও মুসলিম)

মুসলমানেরা এমনই আয়েশ, আরাম, সুখ ও শান্তির মধ্য দিয়ে দিন অতিবাহিত করতে থাকবে। (ইতোমধ্যে কেয়ামত নিকটবর্তী হবে, যেহেতু কেয়ামত খোদাদ্রোহীদের উপরই কায়েম হবে, সেহেতু) আল্লাহ এমন মধুর একটি হাওয়া প্রেরণ করবেন, যা’ মুমিনের শরীর স্পর্শ করা মাত্রই তার (শান্তিদায়ক) মৃত্যু হবে। বাকী থাকবে সবচেয়ে নিকৃষ্ট লোকেরা। তারা গাধার মতো নির্লজ্জভাবে মহিলাদের সাথে প্রকাশ্যে দাড়িয়ে দাড়িয়ে ব্যভিচার/যৌনক্রিয়া করবে। তাদের উপর কেয়ামত নেমে আসবে। (মুসলিম শরীফ)
অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের পরে মূর্খতা ও ধর্মবিমুখতা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে, এমন কি, এ ধরাপৃষ্টে ‘আল্লাহ আল্লাহ’ বলার লোকও খুঁজে পাওয়া যাবে না। নিকৃষ্ট শ্রেণীর লোকদেরই অস্তিত্ব প্রকট হয়ে উঠবে এবং তাদের উপরেই কেয়ামত নেমে আসবে। এই সময়কালের মধ্যে কেয়ামতের অনেক বড় বড় আলামতও প্রকট হয়ে উঠবে। যে সমস্ত আলামতের কথা হাদীছে স্পষ্টভাষায় বর্ণিত হয়েছে। যেমন হযরত হুজাইফা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন, রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, দশটি আলামত / লক্ষণ স্পষ্টরূপে প্রকাশ না-হওয়া পর্যন্ত কেয়ামত সংঘঠিত হবে না। সেগুলি যথাক্রমে -

১. ধোঁয়া (পূর্ব দিক থেকে প্রকাশিত হয়ে পশ্চিম দিকে বিস্তৃতি লাভ করবে। ঐ ধোঁয়া ৪০ দিন স্থায়ীত্ব লাভ করবে। এতে ঈমানদাররা খুব কষ্ট পাবে। কাফির খোদাদ্রোহীরা বেহুঁশ হয়ে পড়বে।

২. দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ

৩. দাব্বাতুল আর্দ (ধরিত্রীর জীব) এর আত্মপ্রকাশ।

৪. পশ্চিম দিকে সূর্যোদয়। (পশ্চিম থেকে উদিত হওয়ার পর যখন সূর্য মধ্য-আকাশে উঠে আসবে, তারপর আবার ফিরে পশ্চিমেই অস্ত গিয়ে আবার আগের মতোই স্বাভাবিকভাবেই পূর্ব আকাশে উদিত হবে। পশ্চিম দিকে সূর্য উঠার পর মানুষ আরো এক শ’ কুড়ি বছর পৃথিবীতে জীবিত থাকবে, তারপর কেয়ামত আসবে।

উল্লেখ্য পশ্চিম দিকে সূর্য উদিত হওয়ার পর আর কোন তওবা বা অনুশোচনা গৃহীত হবে না।

৫. হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এর আকাশ হতে অবতরণ।

৬. ইয়াজুজ মাজুজের আবির্ভাব।

৭. পূর্বে ভুমিধ্বস

৮. পশ্চিমে ভূমিধ্বস

৯. আরবে ভূমিধ্বস।

১০. সবশেষে ইয়েমেন থেকে আগুন বেরুবে। সে আগুন লোকদের হাশর ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। হাশর ময়দান হবে বর্তমান সিরিয়ায়। সেখানেই হযরত ইস্রাফিল আঃ সিঙ্গায় ফুঁক দেবেন। সেদিন হবে সপ্তাহের শুক্রবার।
#collected

*




0 Comments 22 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2020