FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

নামের প্রভাব

নামের প্রভাব

*

গত সপ্তাহে একজন অর্থোপেডিক্সের কাছে গিয়েছিলাম হাটুর একটা সমস্যা নিয়ে। চেম্বারের বাইরে এক বাবা তার তিন বছরের বাচ্চাকে নিয়ে এসেছেন। বাচ্চাটির রিকেট রোগের কারনে দুই পা ধনুকের মত বাঁকা। ভিটামিন ডি এর অভাবে এই রোগ হয়ে থাকে অনেক বাচ্চার।

তো ভদ্রলোকের সাথে কথার এক ফাকে তিনি বললেন, তার বাচ্চার নাম আবরার। সুন্দর নাম। অর্থ নেককার। একটু পর আবার বললেন, পুরো নাম আ’রাজ আবরার।

আ’রাজ মানে ল্যাংড়া খোড়া, যার পায়ে কোন সমস্যা আছে এমন ব্যক্তিকে বলা হয়। ট্রিটমেন্ট করানোর পাশাপাশি তাই নামের এই অংশটি পাল্টে ফেলার অনুরোধ করলাম।

আমাদের বাসার পাশের গলিতে থাকেন এক ভাই। জন্মের পর থেকেই তার বাচ্চাটা অসুস্থ। বাচ্চার নাম রেখেছিলেন “রামিম”। রামিম মানে জীর্ণ শীর্ণ, ক্ষয়প্রাপ্ত। কুরআনের সুরা ইয়াসিনে decomposed অর্থে ব্যবহার হয়েছে। তাকেও বলেছিলাম, রামিম পাল্টে সালিম রাখেন। সালিম মানে নিরাপদ।

আরেক বোনের একমাত্র ছেলে মাত্র চার বছর বয়সে হঠাৎই মারা যায়। বেড়াতে গিয়েছিলেন। সবাই যখন দুপুরের খাবারে ব্যস্ত, ছেলেটি কোন ফাঁকে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। রাস্তার পাশে একটি ছোট পুকুরের মত। সেখানেই হঠাৎ করে পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় তার।

তারা না জেনে তাদের এই ছেলের নাম রেখেছিলেন "তাবীব"। যার একটি অর্থ "ধ্বংসপ্রাপ্ত"। সুরা লাহাবের "তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাব" আয়াতে এই একই অর্থে শব্দটি verb/ ক্রিয়া হিসেবে ব্যবহার হয়েছে।

আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে সবরের তাউফিক দিন।
.
নামের একটি প্রতিক্রিয়া আছে, এটি হাদিস দ্বারা প্রমানিত। পাশাপাশি, দুনিয়াতে ব্যবহৃত নামেই আমাদেরকে আখিরাতে ডাকা হবে। খারাপ নাম থাকলে খারাপ নামে, ভাল থাকলে ভাল।

কুরআন হাদিসে ব্যবহৃত হলেই কোন শব্দের অর্থ ভাল হয়ে যায় না। কুরআনে ফিরআউন, হামান, আবু লাহাবের নামও আছে। এসমস্ত নাম কুরআনের আয়াত হিসেবে পড়লে প্রতি অক্ষরে দশটি করে সাওয়াব পাওয়া যাবে, কিন্তু কারো নাম হিসেবে যে এ শব্দগুলো ভাল নয়, তা তো সবাই বুঝে।

এজন্য কুরআন বা হাদিসের বই থেকে কোন শব্দ পছন্দ হলেই নাম রেখে না দেয়া। আনকমন নামের পেছনে না পড়া। কোন নির্ভরযোগ্য আলিমের সাথে পরামর্শ করা অবশ্যই জরুরী। গুগল করে বা নামের বই দেখে নিজে নিজে নাম রেখে দেয়াটা অনেক রিস্কি। নামের সঠিক উচ্চারন আপনি সাধারনত গুগুলে পাবেন না। উচ্চারনের পার্থ্যকের কারনে অর্থের মধ্যে আকাশ পাতাল পার্থ্যক্য হয়ে যায়। তাই এসব বিষয়গুলো একজন আলিমের পক্ষেই যেহেতু বোঝা সম্ভব, তাই অবশ্যই এমন কাউকে জিজ্ঞেস করে নিন।

প্রতিটি বাবা মার মনে রাখা দরকার, সন্তান ভুমিষ্ট হওয়ার পর তার একটি সুন্দর নাম রাখা তাদের দায়িত্ব। এটা সন্তানের হক। এই হক আদায়ে অবহেলা হলে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।

লেখাঃ রিজওয়ানুল কবির


(collecte)

*




2 Comments 99 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2021