FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

অভিশপ্ত বাড়ি

অভিশপ্ত বাড়ি

*




শহর থেকে একটু দূরে হলেও বাসাটা খুবই সুন্দর। এত কম দামে এত ভালো একটা ফ্লাট পাবো ভাবিনি। যাই হোক ভালোই হয়েছে। ফ্লাটের মালিক আসগর সাহেব বলেছিলো ফ্লাটের চাবি থাকে বাড়ির দারোয়ানের কাছে। ওইতো গেটের সামনে একজন বসে আছে। এনিই মনে হয় দারোয়ান। বয়স্ক মানুষ। মুখ ভরতি পাকা পাকা দাঁড়ি। চোখগুলো ছোট ছোট। চোখের চাহনিটাও কেমন যেন এলোমেলো। কোথাও যেন স্থির হয়ে তাকিয়ে থাকতে পারে না। দেখেই মনে হয় যেন লোকটি পুরো পৃথিবীর উপর বিরক্ত। যদি পুরো পৃথিবী ধংস হয়ে যায় তাহলে তিনি আরাম পাবেন। আমি দারোয়ানটির সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। দারোয়ানটি চোখ সরু করে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। চোখে মুখে সন্দেহ। যেন আমি কোনো জেল পলাতক আসামী।

- কি দরকার আনহের?

- আমি এই বাড়ির নতুন বাসিন্দা?

- নাম কি?

- আমার নাম শান্ত। আসগর সাহেব খুব সম্ভবতো আপনাকে আমার কথা বলেছিলো।

- ওহ! হ কইছিলো আনহের কতা। তা একটা কথা আনহে কি অই ৪ তলার কোনার রুমটা ভাড়া নিছেন?

- হ্যাঁ, অই রুমটায়

খেয়াল করলাম দারোয়ানটির চোখগুলো যেন আরো সরু হয়ে গেল। কপালে ভাঁজ পড়ে গেছে।চোখে মুখে ভীতি স্পষ্ট। এত ভয় পাওয়ার কি হলো?

- এই নেন চাবি। আর একটু সাবধানে থাইকেন।

খেয়াল করলাম চাবি দেয়ার সময় লোকটার হাত কাঁপছে। আমি বেশ অবাক হলাম

- হ্যাঁ সেটা তো অবশ্যই। যাই হোক চাচা আপনার নামটা তো জানা হলো না

- জি আমার নাম হইলো গিয়া রহমত মিয়া। আমি এই হানে সবসময় আছি। কোনো দরকার পড়লে কইয়েন যে।

- আচ্ছা ঠিক আছে বলবো।

আমি চাবিটা নিয়ে উপরে উঠে আসলাম। সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে হচ্ছে। এই বাড়িটায় মনে হয় লিফটের ব্যবস্থা নেই।

দরজাটায় চাবি ঢুকাতেই কেমন যেন অস্বস্থি হচ্ছে। কেন জানি ঘরটায় ঢুকতে ইচ্ছে করছে না। যেন আমার অবচেতন মন আমাকে সাবধান করছে। অনেক বার চাবি ঘুরানোর পরও দরজাটা খুলছে না। অনেকদিন ধরে দরজা না খুলার কারণে মনে হয় মরিচা পড়ে গেছে। এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ দরজাটা খুলে গেল। দরজাটা খুলে ভেতরে ঢোকার সাথে সাথেই এক তীব্র পোড়া গন্ধ নাকে এসে বিঁধল। আমি দাঁড়িয়ে পড়লাম। পরক্ষণেই গন্ধটা কেমন যেন কর্পুরের মতো উবে গেল। এটা কি মনের ভুল ছিল? নিশ্চয় মনের ভুল। এরকম বন্ধ একটা ঘর, যে ঘরে অনেকদিন কারো আসা যাওয়া নেই সেই ঘরে নিশ্চয় পোড়া গন্ধ থাকবে না? আমি ফ্লাটের ভেতর ঢুকে পড়লাম। ঘরময় ধুলো বালিতে ভরতি কিন্তু ফ্লাটের মালিক বলেছিলো তারা ঘরটা পরিষ্কার করে রেখেছে। এটাই তাদের পরিষ্কার করার নমুনা? মনে মনে বাড়িওয়ালার চৌদ্দ গোষ্ঠী নিয়ে বেশ কয়েকটা গালি হাঁকলাম।

বাড়িতে ইলেক্ট্রিসিটি আছে কিন্তু বাল্ব গুলো জ্বলছে না। সস্তার তিন বস্তা আর কি। কম দামের ফ্লাটে এতো কিছু আশা করাও নিশ্চয় ভুল। এই রাত্রিরে আবার বাল্ব কোথায় পাবো। কি যে এক যন্ত্রনার মাঝে পড়লাম না। প্রচন্ড রাগ উঠছে। এখন আর বাইরে যেতে ইচ্ছে করছে না। আবার অন্ধকারে বসে থাকাও যায় না। অগত্যা যেতে হবে।

বাল্ব কিনে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত ১০টা বেজে গেল। প্রচন্ড খিদে পেয়েছে। বাল্বগুলো লাগিয়ে খাবার গরম করতে রান্না ঘরের দিকে এগুলাম। খাবার বাড়ি থেকেই নিয়ে এসেছি। এখন শুধু গরম করলেই হবে। চুলা গুলোতে মনে হচ্ছে মরিচা পড়ে গেছে। বেশ কয়েকবারের চেষ্টায় চুলায় আগুন জ্বললো। আবার নাকে পোড়া গন্ধ আসছে! কোথাও তো কিছুই পোড়ছে না তাহলে গন্ধটা আসছে কোথা থেকে? বাইরে থেকেও আসার উপায় নেই। জানালা গুলোতো সব বন্ধ।আস্তে আস্তে গন্ধটা কেমন যেন অসহ্য লাগছে। আমি আর থাকতে পারলাম না। এতো তীব্র গন্ধ? যেন হাজারটা টায়ার একসাথে পুড়ানো হচ্ছে।আমি গিয়ে জানালা গুলো খুলে দিলাম যাতে গন্ধটা বাইরে চলে যেতে পারে। তাতেও বেশ সুবিধা করতে পারলাম না। আমার কাছে মনে হয় রুম স্প্রে আছে। হুম, ব্যাগেই ছিল। সারা ঘরে স্পে করলাম। তাও গন্ধটা যাচ্ছে না। আমি দাঁড়িয়ে ভাবতে লাগলাম কি করা যায়। তারপর যেমন হঠাৎ করে গন্ধটা এসেছিল ঠিক তেমনি হঠাৎ করেই গন্ধটা চলে গেল। আমি যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

আমি খাবারগুলো গরম করছি। কেমন যেন অসস্থি হচ্ছে। মনে হচ্ছে কেও যেন ঠিক আমার পিছনে নিশব্দে দাঁড়িয়ে আছে। তার নিশ্বাসের শব্দ যেন পাচ্ছি। কেও যেন আমার ঘাড়ে তার গরম নিশ্বাস ফেলছে। আমি পিছনে তাকালাম। পিছনে কেও নেই। সবকিছুকেও আমি নিজের মনের ভ্রান্তি হিসেবে ধরে নিলাম। সারাদিন অনেক ধকল গেছে। যার ফলে মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়েছে। এই ক্লান্ত মস্তিষ্কেরই হয়তো হেলুসিনেশন হচ্ছে। যে কারণে আমার এরকম অনুভুতি হচ্ছে। এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর কোনো কারণ নেই। আমি খাবার খেয়ে ল্যাপটপ টা নিয়ে বসলাম। অনেক কাজ পরে আছে। আজ যা যা হয়েছে সব মাথা থেকে ঝেড়ে ফেললাম। এখানে একা আসা ঠিক হয়নি। মিহিকে নিয়ে আসা উচিত ছিল। একা আছি বলেই কি এরকম অনুভুতি হচ্ছে। হয়তো তাই হবে। ভেবেছিলাম এখানটায় সবকিছু ঠিক করে তারপর মিহিকে নিয়ে আসবো। নতুন চাকরি। আগে সবকিছু গুছিয়ে নিই। এখন কি মিহিকে একটা কল করবো? কি জানি করছে মেয়েটা!

- হ্যালো মিহি?
- হুম। আমিই এখন তোমাকে কল দিতাম। যাই হোক ভালোই করেছো কল দিয়ে। কি করছো?
- কিছুনা অফিসের কাজ করছি
- খেয়েছো?
- হুম কিছুক্ষণ আগেই খেয়েছি। তুমি খেয়েছো?
- হ্যাঁ। আমিও খেয়েছি

হঠাৎ করে কিছু একটা শব্দ কানে আসছে।

- মিহি একটু পড়ে কথা বলি?
- কেন? কি হয়েছে?
- না এমনি আরেকটু পর কল করছি
- আচ্ছা সাবধানে থেকো
- আচ্ছা ঠিক আছে।

আমি ফোনটা রেখে পিছন ফিরে তাকালাম। আবার শব্দটা হলো। খুব ক্ষীণ কিন্তু স্পষ্ট যেন কেও আমার মাথার ভেতর চাপা স্বরে বলছে "চলে যা! চলে যা এখান থেকে! একটা শব্দই বারবার। শব্দটা কি শীতল! শেষ্মা জড়ানো। একেবারে বুকে গিয়ে বিঁধে যাচ্ছে শব্দটা। এসবি কি আমার উত্তপ্ত মস্তিষ্কের কল্পনা না সত্যি সত্যি এসব কিছু ঘটছে আমার সাথে? না এসব কি ভাবছি? নিশ্চয় আমার মনের ভুল! আমি কাজে মন দিলাম। হঠাৎ বাল্বগুলো কেমন যেন কাঁপতে লাগলো। আমি বাল্বগুলোর দিকে তাকালাম। বাল্বগুলো কাঁপছে। যেন ভূমিকম্প হচ্ছে। তার পর হঠাৎ শব্দ করে বাল্বগুলো ফেটে গেল। ঘরময় অন্ধকার হয়ে গেল। নিকষ কালো। বাল্বের কাচগুলো আমার শরীরে এসে পড়েছে। হাত জ্বালা করছে। হাতে কি বিঁধেছে? আমি ফোনের লাইটটা অন করলাম। হাতে কিছু কিছু জায়গা কেটে গেছে। আমি অবাক হয়ে বাল্বগুলো দেখছি। এর আগে কখনো বাল্ব এমনভাবে ফেটে যেতে দেখেনি। এই বাড়িতে আসার পর থেকেই কি সব অদ্ভুত অদ্ভুত ঘটনা ঘটছে। এগুলোর কোনো মানে খুজে পাচ্ছি না আমি। হঠাৎ কি যেন ঝনঝন করে উঠলো। কে? কে ওখানে? খুব জোড়ে যেন কিছু একটা পড়ে গেছে। শব্দটা রান্না ঘর থেকে আসলো মনে হয়। আমি ধীরে ধীরে রান্না ঘরের দিকে এগুলাম। রান্না ঘরে থালা বাসন গুলো এদিক সেদিক ছড়িয়ে আছে। এগুলো কে করলো? কিসের যেন গন্ধ পাচ্ছি। আবার পোড়া গন্ধ? আমি ঘাড় ঘুরিয়ে বসার ঘরে চলে আসছিলাম। আমি থমকে দাঁড়ালাম। মনে হলো কেও যেন খুব দ্রুত আমার সামনে দিয়ে চলে গেল। এত অন্ধকারের মাঝেও যেন আমি স্পষ্ট দেখলাম। লাল লাল চোখগুলো যেন এখনো আমার চোখে ভেসে আছে। কি ছিল এটা? এটাও কি চোখের ভুল? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার মস্তিষ্ক কি আমাকে নিয়ে কোনো মজার খেলা খেলছে? আমি বিষয়টাকে মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে চাইলাম। নিজেকে বুঝাতে লাগলাম আমি যা দেখেছি সবই ভুল। আমার চোখের ভুল। আমি আবার বসার রুমে চলে আসলাম। ল্যাপটপটা এখনো অন করা। কাজগুলো করে ফেলা উচিত। কিন্তু কাজে কেন জানি মন বসছে না। কেমন জানি অসস্থি হচ্ছে। কেও যখন আপনার দিকে সারাক্ষণ কঠিন চোখে তাকিয়ে থাকে তখন যেরকম অসস্থি হয় ঠিক সেরকম। কেও যেন আমার দিকে সবসময় তাকিয়ে আছে। খুব কাছ থেকে যেন আমার উপর নজর রাখছে। আমার পাশে দাঁড়িয়ে যেন আমার দিকে তাকিয়ে আছি। আমি যেন তার উপস্থিতি টের পাচ্ছি। মাঝে মাঝে যেন সে আমার শরীরের উপর তার গরম নিশ্বাস ছাড়ছে। মেঝেতে কি যেন ধপাস করে পড়ে গেল। আমি বসা থেকে উঠে পড়লাম। কিসের শব্দ ছিল অটা? আমি খুজতে লাগলাম। অন্ধকারে বিশেষ সুবিধা করতে পারছি না। ফোনের লাইটটা দিয়ে খুজছি। হঠাৎ দেখতে পেলাম মেঝেতে ফুলদানিটা ভেঙে পড়ে আছে। ফুলদানিটা ভাঙলো কি করে? ফুলদানিটার ভাঙা টুকরো এদিক সেদিক ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। " চলে যা!" কেও যেন কানের কাছে এসে বলে গেল। আমি চেচিয়ে উঠলাম কে? আবার বলে উঠলো, " চলে যা! বাঁচতে চাইলে চলে যা! কি হাড় কাপানো হিমশীতল গলার স্বর! হঠাৎ খেয়াল করলাম, ঘরের কোনায় কেও একজন ঘুটি শুটি মেড়ে বসে আছে। কালো একটা অবয়ব। আমি কে? বলে আতকে উঠলাম। আমার চিৎকার শুনে অবয়বটি একটু নড়ে উঠলো। আমি আমার ফোনের লাইটি অবয়বটির দিকে তাক করলাম। একজন মহিলা উলঙ্গ হয়ে বসে আছে। সারা শরীর দগ্ধ। আগুনে পুড়ে গেলে যেরকম হয় ঠিক সেরকম। সারা শরীরে লাল বর্ণের দগদগে ঘা। কি বিশ্রী দেখাচ্ছে। অবয়বটি যেন আমার দিকে হামাগুড়ি দিয়ে এগুচ্ছে। আমার হৃদস্পন্দন থেমে যাবার উপক্রম হলো। আমি নিজেকে বুঝাতে লাগলাম যা কিছু দেখছি সব কিছুই আমার মস্তিষ্কের কল্পনা।আমার মস্তিষ্ক উত্তেজিত। এর বেশি কিছু না। ব্ৰেইনে অক্সিজেনের অভাল হচ্ছে। লোহিত রক্তকণিকা বেশি বেশি করে অক্সিজেন মস্তিষ্কে পৌঁছাতে পারছে না। আমার মস্তিষ্কে অক্সিজেন ডিপ্রাইভেশন হচ্ছে। আমার হ্যালুসিনেশন হচ্ছে। আমি চোখ বন্ধ করে ফেললাম। নিজেকে বুঝাতে লাগলাম তুমি কিছুই দেখনি। যা দেখেছ সব চোখের ভুল। চোখ খুললেই সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। চোখ খুলতে কেন জানি সাহস হচ্ছে না। মনে মনে প্রার্থনা করছিলাম যেন চোখ খোলার পর সবকিছু ঠিক আগের মত হয়ে যায়। চোখ খোলার পর যেন আমার চোখের সামনে কোন নগ্ন বিশ্রী কোন কিছু না থাকে। আমি ধীরে ধীরে চোখ খুললাম
মনে এই আশা যে চোখের সামনে কিছু থাকবে না। সত্যিই চোখের সামনে কিছু ছিল না। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লাম। তার মানে যা কিছু আমি দেখেছি তার সবকিছুই চোখের ভুল। কেমন জানি একটা প্রশান্তি ছেয়ে গেল সারা মন জুড়ে। নিজের চোখকে ভুল প্রমাণিত করে যেন আনন্দ হচ্ছিল। এখন পর্যন্ত আমার সাথে যা কিছু ঘটেছিল তার সবকিছু মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে চাইলাম। আমি চাইছিলাম সবকিছু ভুলে যেতে কিন্তু কেন জানি সেই বিশ্রী কুৎসিত চেহারাটা বারবার চোখের সামনে ভেসে উঠছিল। নিজেকে কিছুতেই বুঝাতে পারছিলাম না যে আমি এতক্ষণ যা কিছু দেখেছি সব কিছুই আমার মনের ভুল। আমি বাড়ির ব্যালকনিতে গিয়ে দাঁড়ালাম। আমার এখন প্রয়োজন প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন। আমি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে থাকলাম। বেলকুনিতে প্রচুর বাতাস বইছে। শরীরটা মুহূর্তেই জুড়িয়ে গেল
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। আজ আকাশটা সত্যি খুব সুন্দর লাগছে।বেশ বড় একটা চাঁদ উঠেছে। তারি হালকা আলো ব্যালকনিতে এসে ঠিকরে পড়ছে।

এই পর্যন্ত এই বাড়িতে আসার পর থেকে আমার সাথে যা কিছু ঘটেছে সবকিছু ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করলাম। এখন আমার প্রয়োজন একটা দীর্ঘ ঘুম। সকালে উঠে আবার সবকিছু নতুনভাবে শুরু করব। নতুন বাড়ি অনেক কাজকর্ম পড়ে আছে। সবকিছু পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করতে হবে। বাড়িটাকে থাকার মতো করে গড়ে তুলতে হবে। কাজটা সহজ নয়। কালকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। তার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম। তাই ঠিক করলাম তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বো।

আমি বিছানায় শুয়ে পরলাম। ঘুমাতে চেষ্টা করছি কিন্তু কেন জানি ঘুমাতে পারছিনা। বার বার সবকিছু মনে পড়ে যাচ্ছে। সেই পোড়া দুর্গন্ধময় কুৎসিত অবয়ব টা চোখের সামনে ভেসে উঠছে। কিছুতেই ভুলতে পারছি না। নিজেকে বারবার বুঝাচ্ছি সেটা ছিল উত্তপ্ত মস্তিষ্কের নিছক কল্পনা। কিন্তু ভুলতে পারছি না।

কখন যে ঘুমিয়ে পরলাম টেরই পেলাম না। ঘুম ভাঙলো প্রচন্ড কোন শব্দে। কানের পর্দা ফেটে যাবার উপক্রম। আমি উঠে বসলাম। শব্দটার উৎস কোথায় তা খুঁজতে চেষ্টা করলাম। তেমন কিছুই পেলাম না। শব্দ টা অনেকটা বিকট চিৎকার এর মত। হঠাৎ মনে হল আমার বিছানা সামনে কিছু একটা দাঁড়িয়ে আছে। আমি বিস্ফোরিত চোখে তাকিয়ে আছি। কি এটা? হঠাৎ করে জিনিসটা যেন আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ল। জিনিসটা আমার উপর শক্ত করে বসে আছে। যেন মনে হচ্ছে খুব ভারী একটা পাথর আমার বুকের উপর ফেলে দেয়া হয়েছে।আমি শ্বাস নিতে পারছি না। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে। কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। মনে হল অবয়ব টা আমার গলা চেপে ধরেছে। আমি নড়তে পারছিলাম না। সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমি চেষ্টা করছি। তারপর আর আমার কিছুই মনে নেই।

যখন ঘুম ভাঙলো দেখলাম আমি মেঝেতে পড়ে আছি। তার মানে কি আমি স্বপ্ন দেখছিলাম। কোনো ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন? হঠাৎ আমি গলায় ব্যথা অনুভব করলাম। গলায় হাত দিয়ে আমি আতকে উঠলাম। গলায় আমি হাত দিতে পারছি না। গলাটা প্রচন্ড ব্যথা করছে। আমি আয়নায় সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। গলায় লাল বর্ণের আঙুলের মতো ছাপ। যদি রাতে যা ঘটেছিল তা কোনো দুঃস্বপ্নই হয়ে থাকে তাহলে এই ছাপগুলোর মানে কি। এই বাড়িতে কি ঘটেছিল? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু দিতে পারবে এই বাড়ির দারোয়ান রহমত চাচা।

- রহমত চাচা প্রথম মুখ খুলতে না চাইলেও পরে জোড় করায় জানতে পারলাম এই বাড়িতে বেশ কিছু বছর আগে এক দম্পতী থাকতে আসে। তাদের মাঝে সম্পর্ক ভালো ছিল না। প্রতিদিনই তাদের ঝগড়া হতো। একদিন ঝগড়া চরম পর্যায়ে যায়। স্বামী রাগ সামলাতে না পেড়ে টেবিলের উপির রাখা ফুলদানীটা দিয়ে সজোড়ে আঘাত করে স্ত্রীর মাথায়। ফলে স্ত্রীর মৃত্যু হয়। স্বামী হত্যাকান্ডটি ধামা চাপা দিতে বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয়। কিন্তু বেশ কিছুদিন পর স্বামী নিজে থানায় গিয়ে আত্বসমর্পণ করে। এর আগেও এই বাড়িতে থাকতে আসে কিন্তু কেউই এক দিনের বেশি থাকতে পারে না।

- আমি ব্যাগ গুছাচ্ছি। এই বাড়িতে আর হয়তো থাকা হবে না। প্রকৃতি বড়ই রহস্যময়। অতিপ্রাকৃত হয়তো এমন অনেক কিছুই আছে যার ব্যাখ্যা বিজ্ঞানের কাছে নেই। আমাদের তা মেনে নিতে হবে। প্রকৃতির সাথে জোর চলে না।

#অভিশপ্ত_বাড়িতে_একরাত


*




0 Comments 33 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2020