FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

আম্মু আর আমি 🥰

আম্মু আর আমি 🥰

*

আজ বিশ্ব মা দিবস...
রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বাইয়ানি স্ সাগীরা..

আল্লাহ সবার মা বাবা কে নেক হায়াত দান করুন.. কবরে শায়িত সকল মা বাবা কে জান্নাত নসীব করুন.. 😇

আমার কাছে প্রতিদিন ই বিশ্ব মা দিবস.. তবুও পুরো বিশ্বে আজকের দিনটাকে বিশেষ ভাবে পালন করা হয়.. তাই আম্মু আর আমার কিছু ব্যাপার আজ শেয়ার করবো.. সব আম্মুর কাছেই তার সন্তান সেরা.. সব আম্মুই তার সন্তান কে জীবনের চাইতে বেশী ভালোবাসেন ❤️❤️❤️

আম্মু ছোট বেলা থেকেই খুব বেশী সেন্সিটিভ ছিলেন আমাদের স্টাডি নিয়ে, সে আমাকে সরাসরি ক্লাশ ওয়ান এ দিয়েছে, তার চিন্তা ছিলো যত কুইক উপরে উঠানো যায়.. আম্মুর কয়েকটা প্রাইজ আছে এক্টিভ মাদার হিসেবে.. যত অসুস্থ ই হতাম ক্লাশ মিস করাতেন না.. যখন সিকনেস এর জন্য এস, এস, সি তে + মিস যায়, সে বোর্ড চ্যালেঞ্জ করে যে আমার মেয়ের গোল্ডেন মিস যেতে পারে + নয়.. ঠিক এমন রোজায় আমার চ্যালেঞ্জ রেজাল্ট + ই আসে.. মানুষের বাচ্চারা ফেইল করলে ও এইভাবে কাদেনা সে যা করতো আমার + মিস হওয়ায়.. এমন অনেক সিম্পল ঘটনা আছে..

ঘর ঝাড়ু দেয় কিভাবে সেটাই জানতাম না, আমার কাজ ছিলো ঘুম থেকে উঠা আর কোচিং ক্লাশে যাওয়া স্টাডি করা আর ঘুমানো, আর আম্মুর খাওয়াই দেয়া.. 😜
এইভাবেই ইন্টার পার করেছি, তারপর যখন মেডিকেল ডিপ্লোমা তে দিলো হোস্টেল এ থাকতে হবে, না রান্না না চুলে শ্যাম্পু করা কিছুই পারতাম না, সে প্রতি ২ দিন পর গিয়ে খাবার দিয়ে আসতো, আর চুলে শ্যাম্পু করে দিয়ে আসতো... জামা কাপর বাসা থেকে ধুয়ে এনে দিয়ে যেতো 😂

সবাই বলতো এ কেমন পাগল মেয়ে আর মা.. এত তুলু তুলু করে পালার কারন ছিলো, ডাস্ট এলার্জি আর সাইনাস এর প্রবলেম ছিলো আমার, আম্মু খুব ভয় পেতো আমাকে নিয়ে..

১ বছর এইভাবে কস্ট করার পর.. একদিন হোস্টেল এর দেয়াল আমার উপর ভেংগে পরে, এক্সিডেন্ট করি, আব্বু আম্মু পরেরদিন ই আমাকে নিয়ে চলে আসে, পড়াবেনা সেই আবেদন করে.. তারপর বাসা থেকে পড়ার পারমিশন দেয়, আমি ই ফার্স্ট যে বাসা থেকে পড়ার পারমিশন পায়.. তারা ভালো স্টুডেন্ট ছাড়তে চাইলোনা.. বাকি ২ টা বছর জাহান্নামের মত কেটেছে, যেই আমি রাস্তা পার হতে পারতাম না, সে এত দূর গিয়ে ক্লাশ করতাম..

তারপর যাই টাংগাইলে ইন্টার্নিশিপ করতে, ৩ টা মাস প্রতি উইকে টাংগাইলে যেতো আম্মু, দিনের ৫-৬ ঘন্টা ভিডিও কলে কথা বলতাম আম্মুর সাথে, এক কথায় সারাদিন কানেক্ট থাকতাম.. 😍

ঢাকায় জন্ম ঢাকায় বড় হলে ও, আমি একটু ঘরকুনো ছিলাম, এক কথায় আম্মুর হাত ধরে আঁচল এর নিচেই বড় হওয়া.. স্কুল কলেজ এ কেউ প্রপোজ করেছে আম্মুর কাছে কত বিচার দিয়েছি, সবাই ভয় পেতো কিছু হলেই আম্মু কে বলে দিবে.. 🤣🤣

যখন ক্লাশমেট রা ভার্সিটি ৩য় বর্ষ আমি তখন গভঃ জ্ববে সুপারিশ প্রাপ্ত.. ভাগ্য যেই বছর বের হই অই বছর এই নিয়োগ হয় আর জ্বব হয়ে যায়.. আর জ্বব হওয়ার পর ফ্রেন্ড সার্কেল রা পর হতে থাকে, তাদের সবাই কে বাসায় ইনভাইট করি আম্মু অনেক কিছু রান্না করলে ও তারা আসেনা, বাস সবার থেকেই পর হয়ে যাই.. 🙂

জ্বব লাইফে এসে অনেক বেশী সম্মান পেয়েছি, প্রতিদিন কেউ না কেউ মাথায় হাত বুলিয়ে দোয়া করে দিয়ে যায়.. সব কিছুই আমার আম্মুর জন্য.. আমার জীবনে পাওয়া সবকিছুর ক্রেডিট আমার আম্মু.. জীবনে কিছু চাইতে হয়নি, চাওয়ার আগেই সব পেয়েছি সেটা টাকা বা অন্যকিছু.. 😇

সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার ব্যাগ, জুতা, ড্রেস সব সে রেডি করে রাখে, খাওয়াই দেয়, আবার অফিস থেকে এসে পানি ভরে রাখে টেবিলে খাবার দিয়ে রাখবে, রাতে ১১ টায় ঘুম থেকে তুলে ভাত খাওয়াবে, আলহামদুলিল্লাহ অনেক বেশি সুখী জীবনে.. সবাই ভাবছেন বাবা কি করে তাহলে, বাবা এত টাই ভালোবাসে সে বাবা কম আমার বন্ধু বেশী.. বাট আম্মু ইজ আম্মু💜

জীবনে এই মানুষ গুলোর জন্য অনেক কিছু করার আছে, তাদের বয়স্ক জীবনে আমি যেনো তাদের কে এভাবেই সেবা করতে পারি দুয়া করবেন সবাই... 🙏

N.B খুব বেশী বড় হওয়ায় সিম্পল এই আম্মু আর আমার স্টাডি লাইফ শেষ করে দিলাম, কস্ট করে পড়ার জন্য ধন্যবাদ 😊

*




13 Comments 308 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2021