FriendsDiary.NeT | Friends| Inbox | Chat
Home»Archive»

Feluda ( A to Z ) - Review

Feluda ( A to Z ) - Review

*

প্রথমেই বলে রাখতে চাই আমি মোটেও বই অথবা নোবেল পড়ে লিখতে বসি নি।
ব্যাপক হারে মুভি দেখা হয় সময় পেলেই।
তো আজকের সব কথা হবে ফেলুদা মুভি সিরিজ নিয়ে।



জানার সুবিধার্থে বলে রাখি ফেলুদা কে এবং কিসের উপর বেস করে সব কয়টি মুভি।

মুভির ইতিহাস একটু পরে জানাচ্ছি আগে জানাই ফেলুদা মুভির ক্যাটালগ।

ফেলুদা প্রাইভেট ডিটেকটিভ, সে নিয়োজিত হন যদি কেউ তার কাছে আসে কোন এক কেস নিয়ে লাইক খুন, চুরি, মহাচুরি, ডাকাতি, রহস্য ইত্যাদি ভেদ করতে।


আমি একটা বিষয় আশ্বাস্ত করতে চাই যে প্রতিটা মুভিতে আপনি যতই প্রিডিক্ট করতে চান না কেনো যে মূল কালপিট কে, লাভ হবে না
ফেলুদা প্রতিবার আপনাকে হারিয়ে দিবে আর আপনি পুলকিত বোধ করবেন।


ফেলুদা গম্ভীর, অল্পভাষী, কর্মঠ আর প্রচুর বুদ্ধিমান একটি চরিত্র।
এক কথায় দেখার জন্য সম্পূর্ণ আশ এটায় থাকছে।



ফেলুদার সাথে আরো কিছু মানুষ তার কাজের সাথে জড়িত থাকে।
চিন্তা নেই আমি বিন্দুমাত্র স্পয়লার দেব না।

আর যদি দিয়েও দি বা বলেও দি সব স্টোরি তাও আপনার মুভি দেখার ইচ্ছা বিন্দু মাত্র কমার কথা না বলে আমি বিশ্বাস করি।

লিখা টা বড় হবে তাই পড়তে থাকুন।



ফেলুদার আবিষ্কারক হলেন বিখ্যাত লেখক,পরিচালক এবং বহু গুনে গুণান্বিত সত্যজিৎ রায়।

আমরা অনেকে অনেক ভাবে এই লোককে চিনি।

যে বই পড়ে সে চিনে তার লিখার মাধ্যমে।

যে মুভি দেখে সে চিনে তার পরিচালিত মুভির মাধ্যমে।

যে গান শুনে সে চিনে তার গানের মাধ্যমে।

তবে মোস্ট লোকজন তাকে চিনে তার আউটস্ট্যান্ডিং ফিল্ম মেকিং এর মাধ্যমে।



তার যুগান্তকারী অনেক গুলো ক্রিয়েশনের মধ্যে একটা হলো এই ফেলুদা।



মুভিতে, ফেলুদার নিকনেম থাকে ফেলুদা তবে তার আসল নাম প্রদেশ চন্দ্র মিত্র।

আমাদের দেশি লেখক হুমায়ুন আহমেদ এর অসাধারণ ক্রিয়েশন মিশির আলি তেমনি সত্যজিৎ রায়ের অসাধারণ ক্রিয়েশন ফেলুদা।

কাল্পনিক চরিত্র।



ফেলুদার আস পাশ বা সহযোগী হিসাবে থাকে দুইজন।

প্রথমজনের নাম তপেস রঞ্জন মিত্র বা ডাকনাম তোপশে। সে ফেলুদার কাজিন ব্রাদার।

অন্য আরেকজন এই মুভির একটা প্রাণ, নাম লাল মোহন গাংগুলি বা ছদ্মনাম জটায়ু।

লাল মোহনের ছদ্ম নাম জটায়ু কেনো তা মুভি দেখেই জেনে নিয়েন।
জটায়ু হলেন লেখক, থ্রিলিং, মিস্ট্রি গল্প লিখেন তিনি।


তো মোট এই তিন-জন হলো মেইন পাব্লিক এই মুভিতে।



কিছুটা নিজের কথা বলি,

সত্যি বলতে এই ফেলুদা নাম বহু আগেই শুনি তবে কেনো যেন মুভি দেখার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমার মধ্যে ছিল না।

কিন্ত হঠাৎ জানতে পারি এই ফেলুদা গল্প এব মুভির পরিচালক সত্যজিৎ রায়। তখন ইচ্ছা টা বহুগুন বেড়ে গেল।

তারপর দিন ই ইউটিউবে জটায়ুর একটা ছোট্ট ক্লিপ আমি দেখি যা দেখে বাকি সব মুভি বাদ দিয়ে খোজা শুরু করলাম এই মুভি সিরিজের শুরু কোথায় আর শেষ কোথায়।



এই ছিল পরিচয় পর্ব। এখন মুভির লিস্ট এবং সাথে এর কাস্ট সম্পর্কে ডিটেইল জানাবো।



ফেলুদা মুভি প্রথম সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় ১৯৭৪ সালে রিলিজ হয় নাম - " সোনার কেল্লা "

*

এর কাস্টে ছিলেন ফেলুদা চরিত্রে আমার সব চেয়ে প্রিয় অভিনেতা সৌমিত চেটার্জি।

হয়তো নাম এ অনেকে চিনেন না বাট আপনাদের মনে করার সুবিধার্থে বলি, আপনাদের কি মনে পরে " অপুর ট্রিলজি" টা?.

পথেরপাঁচালি, অপরাজিত, অপুর সংসার এই তিন মুভির কথা?

সেই মুভি তে আমাদের প্রিয় অপু ছিলেন এই সৌমিত্র চেটার্জি।

এবং এই অপু ই ছিল তার প্রথম বড় পর্দায় আসা প্রথম মুভি।


আবার সোনার কেল্লায় ফিরি,

তোপসে চরিত্রে ছিলেন সিদ্ধার্থ চেটার্জি এবং জটায়ু চরিত্রে ছিলেন সুশান্ত দত্ত।

সুশান্ত দত্তের মত এই জটায়ু চরিত্র কেউ করতে পারে নি। একদম অমাইক ছিল।



তো "সোনার কেল্লা" ১৯৭৪ এ রিলিজের পর ফেলুদার ২য় মুভি " জয় বাবা ফেলুনাথ " রিলিজ হয় ১৯৭৯ সালে।


এই দুইটি মুভিই করেন সত্যজিৎ রায় নিজে


তারপর কেটে যায় ২০ টি বছর।


সত্যজিৎ রায় মারা যান ১৯৯২ সালে।

এরপর ১৯৯৫ সালে আবারো আসে ফেলুদার মুভি নাম - " বাক্স রহস্য "


এর পরিচালক ছিলেন সত্যজিৎ রায়ের একমাত্র সন্তান সন্দিপ রায়।


এই যে শুরু হলো ফেলুদার গতিপথ
সত্যজিৎ রায়ের পারফেক্ট যোগ্য ছেলে সন্দিপ রায়। বাবার মতই দক্ষতা তার।


১৯৯৫ থেকে ১৯৯৭ পর্যন্ত আসে ফেলুদার ৫ টি মুভি।
সেগুলো-

১. বাক্স রহস্য

২. গোসাঁইপুর সরগম

৩. শেয়াল দেবতা রহস্য

৪. বোসপুকুরে খুন-খারাপি

৫. যতকান্ড কাঠমুন্ডে



বলে রাখা ভালো, সব মুভির স্টরি সত্যজিৎ রায়ের লিখা। সন্দিপ রায় সেই স্টোরি গুলো পর্দায় নিয়ে আসেন।


১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ পর্যন্ত আরো চারটি মুভি হয়।
সেগুলো-

১. জাহাঙ্গীর এর সর্ণমূদ্রা

২. ঘুরঘুটিয়ার ঘটনা

৩. গোলাপি মুক্ত রহস্য

৪. অম্বর সেন অন্তর্ধান রহস্য



বলে রাখি, ১৯৯৫ থেকে ফেলুদা চরিত্রে অভিনয় করেন সভ্যসাচি চক্রবর্তি।

খুব ই গুনি অভিনেতা। যোগ্য ফেলুদা।

*


তারপর,

২০০০ সালে আসে " ডক্টর মুনশির ডাইরি "

২০০৩ এ আসে " বোম্বাইয়ের বম্বেটে"

২০০৭ এ আসে " কৈলাসে কেলেঙ্কারি "

২০০৮ এ আসে " টিনটোরেটোর যীশু "

২০১০ এ আসে " গোরস্থানে সাবধান"

২০১১ এ আসে " রয়েল বেঙ্গল রহস্য"

এবং সর্বশেষ ফেলুদার মুভি মুক্তিপায় ২০১৬ তে নাম-
" ডাবল ফেলুদা "


ডাবল ফেলুদা বলতে বুঝানো হয়েছে
.
.
.
.
.

জানি, বাট বলব না 😝



এই হলো মোট ১৮ টি মুভি।

ফেলুদা (১৯৭৪-২০১৬)


তবে ২০১৬ সালে ১৯৭৪ এর "সোনার কেল্লা" মুভিটির কপি রাইট সন্দিপ রায় বিক্রি করে দেন " প্রদ্বীপ সরকার" এর কাছে।

আমরা আশা করি সঠিক মূল্যায়ন করে তিনি রিমেক টা বানাবেন।


তো আজকে আমি রেটিং দিলাম না, আসলে আমার পক্ষে এই মাস্টারপিস এর রেটিং দেয়া সম্ভব না।

আমি এই ১৮ টা মুভির এক্টাতেও খারাপ লাগা বা কাটিং করার কোন অপশন পাই নি।


মুভিগুলো ছোট, বড়, জোয়ান, বুড়ো সবাই সমানতালে দেখতে পারে।
আমি তো বলি পুরা ফেমেলি নিয়ে দেখবেন।

বিন্দুমাত্র বোল্ড সিন / সুড়সুড়ি মূলক কিচ্ছু নাই।

আর বোরিং তো হবেন ই না। গেরান্টি



আমি পুরোনো দিনের মুভি খুব ই পছন্দ করি।

আসলে মুভির সর্ণযুগ চলে গেছে ১৯ শতকেই।

তাই সেই সময়কার মূভির তুলনা চলে না এই সময়ের মুভিতে।



তো আজ এই পর্যন্তই, সবাই ভালো থাকবেন এবং সঠিক মানুষিকতার মুভি দেখবেন।

বয়সের দোষ দিয়ে সেক্সুয়াল সুড়সুড়ি মূলক মুভি বর্জন করুন।
মনে রাখবেন অগুলো কোন শিল্প না। অগুলা নোংরামি। যা এই বর্তমানের সো কল্ড সভ্য সমাজ উন্মুক্ততা আর শৈল্পিক বুঝায়।

অখাদ্য মুভি ত্যাগ করুন
রুচিশীল মূভিতে আগ্রহ বাড়ান

কিছু জানার থাকলে ইনবক্স / কমেন্ট করুন

বিদায়
সবাই ভালো থাকবেন

*




6 Comments 174 Views
Comment

© FriendsDiary.NeT 2009- 2021